বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩

মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাং আধিপত্যের দ্বন্দ্বে ‘এলেক্স ইমন’ খুন, গ্রেপ্তার ৪

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:১৯

সংগৃহীত

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে কিশোর গ্যাং ‘এলেক্স গ্রুপ’–এর প্রধান ইমন হোসেন ওরফে এলেক্স ইমনকে। গত রোববার (তারিখ) দিনের বেলায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে জানিয়েছে, ছিনতাই হওয়া একটি স্মার্টফোনকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ গ্রুপের সঙ্গে বিরোধ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। এর আগে সকালে দুই দফায় দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনাও হয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন ইউনিট ঘটনার পর থেকেই অভিযানে নেমে এ পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এর মধ্যে ঘটনাস্থল থেকে আটক তিনজন হলেন মো. সাইফ (২৩), তুহিন (২০) ও মো. রাব্বী কাজী (২৫)। পরে আরও একজন মো. সুমন (২৫) গ্রেপ্তার হন। পুলিশ জানিয়েছে, তারা সবাই আরমান–শাহরুখ গ্রুপের সদস্য।

ঘটনায় ইমনের মা ফেরদৌসী বেগম বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেছেন। মামলায় মোট ২১ জনকে আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্র জানায়, রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থান–সংলগ্ন এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই ইমন গ্রুপ ও আরমান–শাহরুখ গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলছিল। ওই এলাকার ভ্রাম্যমাণ দোকান, অটোরিকশা গ্যারেজ, নার্সারি থেকে চাঁদা আদায়সহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

সোমবার বিকেলে কামরাঙ্গীরচর ও রায়েরবাজার এলাকায় দুই গ্রুপের মধ্যে পুনরায় সংঘর্ষ হয়। এরপর বিকেল ৪টার দিকে রায়েরবাজার এলাকায় ইমনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, চাপাতি হাতে ১০–১৫ জনের একটি দল ইমনকে ধাওয়া করছে এবং পরে তাকে ঘিরে ধরে কোপানো হচ্ছে। হামলায় তার পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বলেও জানা গেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আরও ১০–১২ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারের অভিযান চলছে।

ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের ডিসি ইবনে মিজান বলেন, ইমন দীর্ঘদিন এলাকা ছাড়াই বাইরে থেকে এসে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালাত এবং ঘটনার দিনও সাভার থেকে মোহাম্মদপুরে আসে। আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব বিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।

 

এনএফ৭১/ওতু



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top