আলোচিত স্কুলছাত্রী অদিতা হত্যা মামলায় গৃহশিক্ষকের ফাঁসির আদেশ
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৭:১৮
নোয়াখালী শহরের লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকায় নোয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাসনিয়া হোসেন অদিতা (১৪) হত্যার মামলায় সাবেক গৃহশিক্ষক আব্দুর রহিম রনি (৩৩)-কে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। রায়ে তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে নোয়াখালীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল–১-এর বিচারক মোহাম্মদ খোরশেদুল আলম শিকদার এ রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে আসামিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানান, মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত আসামিকে সর্বোচ্চ শাস্তি দিয়েছেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নোয়াখালী পৌরসভার লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকার একটি বাড়ি থেকে অদিতার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার গলা, হাত ও পায়ের রগ কাটা ছিল। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
ঘটনার পরপরই ওই রাতেই সাবেক গৃহশিক্ষক আব্দুর রহিম রনিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত ছোরা, বালিশসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেন এবং আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
নিহত অদিতা নোয়াখালী পৌরসভার লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তার বাবা মারা গেছেন এবং মা একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা।
পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, অদিতা আগে আব্দুর রহিম রনির কাছে প্রাইভেট পড়ত। পরে সে আর তার কাছে না পড়ার সিদ্ধান্ত নেয় এবং অন্য কোচিংয়ে ভর্তি হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন রনি। ঘটনার দিন অদিতার মা বাসায় না থাকার সুযোগে তিনি বাসায় প্রবেশ করে তাকে জোরপূর্বক চেষ্টা করেন। ব্যর্থ হয়ে ঘটনা আড়াল করতে তিনি অদিতাকে হত্যা করেন এবং ঘটনাস্থল এলোমেলো করে দুর্ঘটনার রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেন।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের সময় আসামির শরীরে আঁচড়ের দাগ এবং পোশাকে রক্তের চিহ্ন পাওয়া যায়। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের ৪১ জন এবং আসামিপক্ষের ৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত এ রায় দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এ রায় সমাজে অপরাধীদের জন্য কঠোর বার্তা হিসেবে কাজ করবে। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রায়ে অসন্তোষ জানিয়ে উচ্চ আদালতে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর নোয়াখালীসহ বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। বিচার দাবিতে বিভিন্ন সময় মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।