বিনা পারিশ্রমিকে দীর্ঘদিন ধরে কিডনি প্রতিস্থাপন করে মানবসেবায় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করা প্রখ্যাত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম এবার নিজেই চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন।
রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকায় তার প্রতিষ্ঠিত একটি কিডনি ও ইউরোলজি হাসপাতালকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র চাপ সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত হিসেবে শেরেবাংলা নগর থানা যুবদলের সাবেক এক সংগঠক মো. মঈন উদ্দিন মঈনের নাম উঠে এসেছে।
ডা. কামরুল ইসলামের প্রতিষ্ঠিত ওই হাসপাতাল প্রায় দুই দশক ধরে কিডনি প্রতিস্থাপন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। মানবসেবায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি স্বাধীনতা পদকও অর্জন করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে হাসপাতালটিকে লক্ষ্য করে ওই চক্রটি ভয়ভীতি প্রদর্শন ও চাঁদা দাবি করে আসছে। বিশেষ করে গত জুলাই-আগস্টের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয় বলে দাবি করেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, এক ব্যক্তি হাসপাতালে প্রবেশ করে কর্মীদের সঙ্গে উত্তেজিত আচরণ করছেন এবং নিজেকে রাজনৈতিক পরিচয় দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই ব্যক্তিকে মঈন উদ্দিন মঈন হিসেবে শনাক্ত করার দাবি করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
অভিযোগে আরও বলা হয়, টেন্ডার সংক্রান্ত বিরোধ থেকেই মূলত এ ঘটনার সূত্রপাত। খাবার সরবরাহের টেন্ডার না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে চাঁদা দাবি ও চাপ সৃষ্টি করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। এছাড়া রাজনৈতিক দলের শীর্ষ পর্যায়েও অভিযোগ জানানো হয়েছে বলে দাবি তাদের।
অন্যদিকে, শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে উভয় পক্ষকে নিয়ে আলোচনাও হয়েছে। তবে সরাসরি চাঁদাবাজির অভিযোগ পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জমা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
ঘটনাটি ঘিরে জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একজন মানবিক চিকিৎসকের প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অভিযোগ উঠায় বিষয়টি এখন সর্বমহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।