রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬, ২২ চৈত্র ১৪৩২

১৪ এপ্রিলের মধ্যে জাদুঘর খুলুন, নয়তো অবস্থান কর্মসূচি: শহীদ পরিবার

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:৪২

ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রাখার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সাধারণ আলেম সমাজ।

রোববার (৫ এপ্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত ‘শহীদ পরিবারের আর্তনাদ ও সংবাদ সম্মেলন’-এ বক্তারা এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, জুলাই গণহত্যা মামলার আসামি ও যুবলীগ-সম্পৃক্ত এক সচিব আমলাতান্ত্রিক জটিলতার অজুহাতে পরিকল্পিতভাবে জাদুঘরটি চালু হতে দিচ্ছেন না।

বক্তারা বলেন, একজন আসামির হাতে শহীদদের শেষ স্মৃতির ভবিষ্যৎ জিম্মি হয়ে থাকা রাষ্ট্রের জন্য লজ্জাজনক। তাদের ভাষায়, এই জাদুঘর কোনো সাধারণ স্থাপনা নয়; এটি শহীদদের স্মৃতির শেষ আশ্রয়স্থল। শহীদ পরিবারগুলো তাদের প্রিয়জনদের স্মৃতিচিহ্ন বিশ্বাসের জায়গা থেকে এখানে তুলে দিলেও সেগুলো এখন অন্ধকারে আটকে রাখা হয়েছে, যা শহীদদের প্রতি চরম অবমাননা এবং পরিবারের সঙ্গে নির্মম আচরণ।

নেতারা আরও বলেন, জুলাই জাদুঘর শুধু জুলাইয়ের স্মৃতি নয়, বরং বিডিআর হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরে সংঘটিত গণহত্যা এবং গত ১৬ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের নানা ঘটনার স্মৃতি ধারণ করে নির্মিত হয়েছে। তাদের দাবি, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অনীহা ও উদাসীনতার কারণেই জাদুঘরটি এখনও চালু হয়নি। পাশাপাশি সংস্কৃতিমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলে বলা হয়, দেশের নিজস্ব সংগ্রামের ইতিহাসের প্রতি উপেক্ষা দেখিয়ে ভিন্ন দেশের সংস্কৃতির প্রতি অতিরিক্ত আগ্রহ জাতির আত্মপরিচয়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা সতর্ক করে বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর যে অন্তর্ভুক্তিমূলক সাংস্কৃতিক ধারা তৈরি হয়েছিল, সেটিকে নষ্ট করে আবার দলীয় সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে, যা শহীদদের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।

তারা স্পষ্টভাবে ঘোষণা দেন, আগামী ১৪ এপ্রিলের মধ্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর জনসাধারণের জন্য খুলে দিতে হবে। অন্যথায় শহীদ পরিবারগুলোকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর ও সর্বাত্মক আন্দোলন গড়ে তোলা হবে, যার দায় সরকারকেই নিতে হবে।

এনএফ৭১/একে



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top