সরকারি চাকরিতে সরাসরি বরখাস্তের বিধান রেখে সংসদে বিল পাস
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:৫৫
সরকারি কর্মচারীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত এবং কর্মস্থলে শৃঙ্খলা জোরদারে বিদ্যমান আইন সংশোধন করেছে সরকার। এ লক্ষ্যে সরাসরি বরখাস্তসহ কঠোর শাস্তির বিধান রেখে জাতীয় সংসদে নতুন বিল পাস হয়েছে।
রোববার জাতীয় সংসদে স্পিকারের সভাপতিত্বে ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ শীর্ষক বিল উত্থাপন করা হয়। পরে কণ্ঠভোটে বিলটি অনুমোদন পায়।
সংশোধিত আইনে বলা হয়েছে, কোনো সরকারি কর্মচারী ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বৈধ নির্দেশ অমান্য করলে, সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বাধা দিলে কিংবা যৌথভাবে কর্মবিরতিতে অংশ নিলে তা ‘সরকারি কাজে বিঘ্ন সৃষ্টিকারী অসদাচরণ’ হিসেবে বিবেচিত হবে। একইভাবে, অন্য কর্মচারীর দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়াও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
এই ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে তিন ধরনের শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। এগুলো হলো- নিম্নপদে অবনমিত করা, বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া এবং সরাসরি চাকরি থেকে বরখাস্ত।
আইনে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দ্রুত তদন্ত প্রক্রিয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। অভিযুক্ত কর্মচারীকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শাতে হবে। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে তিন কার্যদিবসের মধ্যে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। কমিটিকে ১৪ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে, বিশেষ ক্ষেত্রে সময় আরও সাত দিন বাড়ানো যেতে পারে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না করলে তা সংশ্লিষ্ট সদস্যদের অদক্ষতা হিসেবে বিবেচিত হবে এবং তাদের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। এই তথ্য সরকারি নথিতে সংরক্ষণ করা হবে।
আইন অনুযায়ী, দণ্ডপ্রাপ্ত কর্মচারী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে আপিল করতে পারবেন। তবে রাষ্ট্রপতির আদেশের ক্ষেত্রে আপিলের সুযোগ না থাকলেও পুনর্বিবেচনার আবেদন করা যাবে।
বিলের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে শৃঙ্খলা, আনুগত্য ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেই এই সংশোধন আনা হয়েছে। এর মাধ্যমে আগের দুটি অধ্যাদেশ বাতিল করে স্থায়ী আইনি কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।