রবিবার, ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে আইআরজিসির ‘রেডলাইন’ ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:১৫

সংগৃহীত

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ডস (আইআরজিসি)। শনিবার (১০ জানুয়ারি) দেওয়া এক বিবৃতিতে তারা জানায়, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা তাদের জন্য ‘রেডলাইন’ এবং তা কোনোভাবেই লঙ্ঘন করতে দেওয়া হবে না।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, আইআরজিসি একই সঙ্গে সতর্ক করে জানিয়েছে যে, জনসম্পত্তি ও কৌশলগত অবকাঠামো রক্ষায় দেশটির সামরিক বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের নেতাদের উদ্দেশে নতুন করে হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর এই বিবৃতি আসে। এ বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সাহসী জনগণের পাশে রয়েছে।

গত দুই সপ্তাহ ধরে ইরানের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। শুরুতে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু হলেও দ্রুত তা রাজনৈতিক রূপ নেয়। বর্তমানে বিক্ষোভকারীরা সরাসরি ধর্মীয় শাসনের অবসানের দাবি জানাচ্ছে। তবে ইরানি কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এই ‘দাঙ্গা’ উসকে দিচ্ছে।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, তেহরানের পশ্চিমে কারাজ শহরে একটি পৌর ভবনে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনার জন্য ‘দাঙ্গাকারীদের’ দায়ী করা হয়। একই সঙ্গে শিরাজ, কোম ও হামেদান শহরে নিহত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের জানাজার দৃশ্য সম্প্রচার করা হয়েছে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, এ পর্যন্ত কয়েক ডজন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন।

এদিকে দেশজুড়ে ইন্টারনেট যোগাযোগ ব্যাপকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। পশ্চিম ইরানের এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, তার এলাকায় বিপ্লবী গার্ডস মোতায়েন করা হয়েছে এবং তারা গুলি চালাচ্ছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে তিনি পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছা জানান।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত আরেক বিবৃতিতে আইআরজিসি দাবি করেছে, ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ সামরিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। এতে কয়েকজন নাগরিক ও নিরাপত্তা সদস্য নিহত হয়েছেন এবং বিভিন্ন স্থাপনায় অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের অর্জন রক্ষা এবং দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। বর্তমান পরিস্থিতি চলতে দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয় বলেও জানানো হয়।

অন্যদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির অধীনস্থ নিয়মিত সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা জাতীয় স্বার্থ, কৌশলগত অবকাঠামো ও জনসম্পত্তি রক্ষায় সব ধরনের ব্যবস্থা নেবে।

এদিকে বিদেশে অবস্থানরত ইরানের সাবেক শাহের ছেলে রেজা পাহলভি বিক্ষোভে সমর্থন জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, আন্দোলনের লক্ষ্য শুধু রাস্তায় নামা নয়, বরং শহরের কেন্দ্রগুলো দখল করে ধরে রাখার প্রস্তুতি নেওয়া। একই সঙ্গে তিনি পরিবহন, তেল, গ্যাস ও জ্বালানি খাতের শ্রমিকদের দেশব্যাপী ধর্মঘটের আহ্বান জানান।

এর আগে বৃহস্পতিবার ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানি বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানো হলে যুক্তরাষ্ট্রও কঠোর জবাব দেবে। তিনি বলেন, “তোমরা যদি গুলি চালাও, আমরাও গুলি চালাব।”

 

এনএফ৭১/ওতু



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top