মার্কিন হামলার আশঙ্কায় ইরানে আতঙ্ক, মানসিক প্রস্তুতিতে সাধারণ মানুষ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৭:৪৯
যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হামলার আশঙ্কায় ইরানের সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটির ভেতরে ও বাইরে থাকা ইরানিরা মানসিকভাবে যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন।
গত ৩০ জানুয়ারি রাত থেকে ইরানজুড়ে গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো সময় হামলা চালাতে পারে। এ কারণে অনেক মানুষ সারা রাত ঘুমাতে পারেননি। তেহরানের এক বাসিন্দা জানান, বিস্ফোরণের শব্দের ভয়ে বারবার ঘুম ভেঙে যাচ্ছিল।
৩১ জানুয়ারি সকালে অনেক ইরানি একে অপরকে জানান, হামলা খুব কাছাকাছি। বয়স্ক নাগরিকদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। কেউ মনে করছেন হামলা পরিস্থিতির পরিবর্তন আনতে পারে, আবার অনেকে আশঙ্কা করছেন—যুদ্ধ হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে সাধারণ মানুষ।
গত এক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ্যে ইরানকে হুমকি দিয়ে আসছে। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবহরের উপস্থিতি এবং ইসরায়েল ও সৌদি আরবের সঙ্গে অস্ত্রচুক্তি ইরানিদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
এদিকে অর্থনৈতিক সংকট ও সাম্প্রতিক বিক্ষোভ দমনের ঘটনায় ইরান এমনিতেই চাপে রয়েছে। গত ডিসেম্বরে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে বহু মানুষ নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে, যার স্মৃতি এখনও মানুষের মনে তাজা।
এই পরিস্থিতিতে অনেক ইরানি নিজেদের সুরক্ষায় প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খাবার ও পানি মজুত, জরুরি ওষুধ সংগ্রহ এবং দ্রুত সরে যাওয়ার পরামর্শ ছড়িয়ে পড়ছে। তেহরানের অনেক বাসিন্দা জানালার কাচ সিল করছেন, কেউ কেউ কয়েক মাসের ওষুধ কিনে রাখছেন।
এই উদ্বেগ শুধু ইরানের ভেতরেই নয়, দেশটির প্রায় ৪০ লাখ প্রবাসী ইরানির মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে। তারা ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ নিয়ে চিন্তিত।
যদিও শহরগুলোতে আপাতদৃষ্টিতে স্বাভাবিক জীবন চলছে—দোকানপাট খোলা, স্কুল ও যান চলাচল স্বাভাবিক—তবু এই স্বাভাবিকতার আড়ালে মানুষের মনে কাজ করছে গভীর আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা।
একজন শিক্ষার্থী বলেন, আগের যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকেই মানুষ জানে যুদ্ধ কতটা ভয়াবহ হতে পারে। তাই আতঙ্কের চেয়ে মানসিক প্রস্তুতিই এখন বেশি।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।