বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৪ চৈত্র ১৪৩২

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মাঝেই সংকটে মার্কিন রণতরি ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৮ মার্চ ২০২৬, ১৭:৪৪

সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে গুরুতর অভ্যন্তরীণ সংকটে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড। সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ড, যান্ত্রিক ত্রুটি এবং নাবিকদের মানসিক চাপে জাহাজটির কার্যক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বুধবার প্রকাশিত দ্য গার্ডিয়ান-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, রণতরিটি লোহিত সাগর থেকে সরে গিয়ে ক্রিট দ্বীপের দিকে মেরামতের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডে বড় ক্ষতি

জাহাজটির লন্ড্রি বিভাগে ভয়াবহ আগুন লাগার ঘটনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ধোঁয়ার কারণে প্রায় ২০০ নাবিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও অন্তত ১০০টি শয্যা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। গুরুতর আহত এক সেনাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জাহাজ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

যদিও মার্কিন নৌবাহিনী দাবি করেছে যে মূল ইঞ্জিন সচল রয়েছে, তবুও সামগ্রিক সক্ষমতা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।

দীর্ঘ মোতায়েনে মানসিক চাপ

প্রায় নয় মাস ধরে সমুদ্রে অবস্থানের কারণে চার হাজারের বেশি নাবিকের মনোবল মারাত্মকভাবে কমে গেছে। দীর্ঘদিন যুদ্ধ প্রস্তুতি ও বিদেশে অবস্থান তাদের মানসিক চাপে ফেলেছে। অগ্নিকাণ্ডের পর সেই চাপ আরও বেড়েছে বলে বিভিন্ন মার্কিন গণমাধ্যমে উঠে এসেছে।

টয়লেট ব্যবস্থার দুরবস্থা

জাহাজটির অভ্যন্তরীণ সমস্যার মধ্যে টয়লেট সংকট বিশেষভাবে আলোচিত। ড্রেনেজ ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে নিয়মিত জ্যাম তৈরি হচ্ছে, ফলে নাবিকদের দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। পূর্বে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এসব পরিষ্কারে ব্যয়ও অত্যন্ত বেশি।

সামরিক অভিযানে প্রভাব

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরানবিরোধী সামরিক অভিযানে এই রণতরিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিল। প্রায় ৭৫টির বেশি যুদ্ধবিমান বহনে সক্ষম এই জাহাজটি অভিযানের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। ফলে এটিকে সরিয়ে নেওয়ায় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতিতে সাময়িক শূন্যতা তৈরি হতে পারে।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর তথ্য অনুযায়ী, বিকল্প হিসেবে ইউএসএস জর্জ এইচ.ডব্লিউ. বুশ-কে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

এই দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েনের সমালোচনা করেছেন মার্ক ওয়ার্নার। তার অভিযোগ, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তের কারণে নাবিকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

সব মিলিয়ে, প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই অত্যাধুনিক রণতরিটি এখন বড় ধরনের সংকটে রয়েছে। কবে এটি আবার পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

 

এনএফ৭১/ওতু



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top