প্রতীকী উপস্থিতি নয়, দেশ বদলাতেই মন্ত্রিসভায় এসেছি: সিরিয়ার একমাত্র নারী মন্ত্রী
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৮:৩৫
সিরিয়ার অন্তর্বর্তী সরকারের সমাজকল্যাণ ও শ্রমবিষয়ক মন্ত্রী হিন্দ কাবাওয়াত বলেছেন, তিনি কেবল নারী প্রতিনিধিত্ব দেখানোর জন্য মন্ত্রিসভায় আসেননি, বরং যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে বদলানোর দায়িত্ব নিয়েই কাজ করছেন।
প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার নেতৃত্বাধীন সরকারের একমাত্র নারী সদস্য কাবাওয়াত। তার প্রধান দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে দরিদ্র নারী, এতিম, বিধবা এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারকে সহায়তা করা। দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের ফলে সিরিয়ায় লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, ধ্বংস হয়েছে অসংখ্য ঘরবাড়ি, হারিয়েছে জীবিকা। সাম্প্রতিক সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় নতুন করে আরও অনেক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হিন্দ কাবাওয়াত বলেন, রূপান্তরের এই সময়ে ভুল হওয়া স্বাভাবিক। সরকার এসব ভুল স্বীকার করছে এবং অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, তিনি আগে একজন সিরীয় নাগরিক, পরে নারী বা সংখ্যালঘু। নিজেকে আলাদা পরিচয়ে সীমাবদ্ধ করলে দায়িত্বের বৈধতা ক্ষুণ্ন হয় বলে তিনি মনে করেন।
দীর্ঘ প্রায় ৫০ বছরের স্বৈরশাসনের পর সরকার ও জনগণের মধ্যে বিশ্বাস ফিরিয়ে আনা কঠিন উল্লেখ করে কাবাওয়াত বলেন, এ জন্য সংলাপ ও পারস্পরিক আস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। নতুন অন্তর্বর্তী পার্লামেন্টে নারীদের উপস্থিতি খুবই কম উল্লেখ করে কাবাওয়াত বলেন, ভবিষ্যতে এই চিত্র পরিবর্তন করা জরুরি।
দেশ পুনর্গঠন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সিরিয়া এখন প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি রাষ্ট্র। নতুন করে দেশ গড়তে আইন ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরিতে সময় লাগবে। তবে কাজ থেমে থাকলে চলবে না।
তিনি বলেন, “বহু কষ্ট ও কান্নার পর এখন সামনে এগিয়ে যাওয়ার সময়। সবাইকে আবার নতুন করে শুরু করতে হবে।”
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।