যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক শুল্ক ১০ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার ঘোষণা ট্রাম্পের
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:৪০
যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা প্রায় সব পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শনিবার নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে এ ঘোষণা দেন তিনি।
এর আগে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের বৈশ্বিক পাল্টা শুল্ক আরোপের একটি উদ্যোগ বাতিল করে রায় দেন। আদালত বলেন, অর্থনৈতিক জরুরি অবস্থা-সংক্রান্ত আইনের আওতায় উচ্চ হারে শুল্ক আরোপ করে প্রেসিডেন্ট তার ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন।
আদালতের এই রায়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভিন্ন একটি বাণিজ্য আইনের আওতায় বিশ্বের প্রায় সব দেশের পণ্যে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। পরে শনিবার সেটি বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়।
ট্রাম্প যে বাণিজ্য আইনের আওতায় নতুন শুল্ক ঘোষণা করেছেন, তা ‘সেকশন ১২২’ নামে পরিচিত। এই আইনের অধীনে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা যায়। তবে ১৫০ দিন পর এই শুল্কের মেয়াদ বাড়াতে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
শনিবার দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প জানান, তিনি এই ১৫০ দিন সময়কে আরও কিছু শুল্ক আরোপের কাজে ব্যবহার করবেন, যা ‘আইনগতভাবে অনুমোদিত’। এ লক্ষ্যে ট্রাম্প প্রশাসন আরও দুটি আইনের ওপর নির্ভর করার পরিকল্পনা করছে। এসব আইন জাতীয় নিরাপত্তা কিংবা অসাধু বাণিজ্যচর্চার তদন্তের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট পণ্য বা দেশের ওপর শুল্ক আরোপের সুযোগ দেয়।
পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, “যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমি অবিলম্বে বিশ্বজুড়ে দেশগুলোর ওপর আরোপিত ১০ শতাংশ শুল্ক বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ স্তরে উন্নীত করছি। অনেক দেশ কয়েক দশক ধরে কোনো পাল্টা ব্যবস্থা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রকে ঠকিয়ে আসছে (যতক্ষণ না আমি এসেছি!)। এখন থেকে তা আইনসম্মত ও পরীক্ষিত উপায়ে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ হারে নেওয়া হবে।”
শুক্রবারের সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পক্ষে ছিলেন ছয়জন বিচারপতি, বিপক্ষে ছিলেন তিনজন। তবে এই রায়ের পরও ট্রাম্পের মধ্যে বৈশ্বিক বাণিজ্যযুদ্ধ থেকে পিছু হটার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বরং তিনি ব্যক্তিগতভাবে বিচারপতিদের আক্রমণ করেছেন এবং দাবি করেছেন, নিজের ইচ্ছামতো শুল্ক আরোপের ক্ষমতা এখনো তার রয়েছে।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।