ভারতের উত্তরপ্রদেশে তিন প্রবীণ মুসলিমকে মারধর, ভিডিও ভাইরাল
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:৩১
ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের বদায়ুঁ জেলায় তিনজন প্রবীণ মুসলিমকে মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগীরা আতঙ্কে রয়েছেন এবং ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
৫৬ বছর বয়সী আব্দুল সালাম বিবিসি–কে জানান, তিনি ও তার সঙ্গীদের শান্তভাবে বসে থাকা অবস্থায় মারধর ও কটূক্তির শিকার হতে হয়েছে। তার অভিযোগ, হামলাকারীরাই ভিডিও ধারণ করে তা ছড়িয়ে দেয়। তিনি বলেন, “আমরা কোনো ঝগড়া চাই না, ন্যায়বিচার চাই।” এছাড়া অভিযুক্ত দ্রুত জামিনে মুক্তি পেয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় ধারায় মামলা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আব্দুল সালামের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৬ ফেব্রুয়ারি তিনি তার দুই সঙ্গী আরিফ ও জাভেদকে নিয়ে রুদায়ন এলাকার ইসলামনগর থানা অঞ্চলে সহায়তা সংগ্রহে যান। এ সময় এক যুবক পেছন থেকে এসে তাদের আধার কার্ড দেখতে চান। পরে ধর্মীয় কটূক্তি করে মারধর করেন এবং টুপি খুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তাদের চোর বলেও অপবাদ দেওয়া হয়।
ঘটনার তিন দিন পর ১৯ ফেব্রুয়ারি পুলিশ মামলা দায়ের করে এবং অভিযুক্ত অক্ষয় শর্মা ওরফে ছোট্টুকে গ্রেপ্তার করে। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান।
স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা সুনীল কুমার জানান, ঘটনাটি তদন্তাধীন। তবে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ধর্মীয় বিদ্বেষের বিষয়টি যথাযথভাবে মামলায় অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় অভিযুক্ত সহজেই জামিন পেয়েছেন।
অভিযুক্তের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি নিজেকে বজরং দল–এর নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। এ দাবি যাচাই করতে স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে বদায়ুঁর সহসওয়ান এলাকা থেকে সমাজবাদী পার্টি–এর বিধায়ক ব্রজেশ যাদব দাবি করেছেন, অক্ষয় শর্মা ‘গো-রক্ষা মিশন’ নামে একটি সংগঠনের জেলা সভাপতি। তবে এ তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
২০১৪ সালে ভারতীয় জনতা পার্টি ক্ষমতায় আসার পর দেশে মুসলিমদের ওপর হামলা ও গণপিটুনির ঘটনা বেড়েছে—এমন অভিযোগ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বিশেষ করে গোমাংস বহন, গরু ব্যবসা বা ধর্মীয় বিদ্বেষকে কেন্দ্র করে একাধিক সহিংস ঘটনার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি–ও সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ নাকচ করেছেন। ভুক্তভোগীরা বলছেন, তারা শান্তিপূর্ণভাবে জীবনযাপন করতে চান এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছেন।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।