মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২

পাকিস্তানিদের ওপর মার্কিন সেনাদের গুলি, নিহত ১০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ৩ মার্চ ২০২৬, ১৫:৪৪

ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের করাচিতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেটের সামনে বিক্ষুব্ধ জনতার বিক্ষোভ ও হামলার সময় মার্কিন মেরিন সেনারা গুলি চালিয়েছে। সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের দুই কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানান।

কূটনৈতিক স্থাপনায় এ ধরনের শক্তি প্রয়োগকে বিরল ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতে দেশটিতে চলমান উত্তেজনা আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

খবরে বলা হয়, রোববার বিক্ষোভকারীরা কনস্যুলেট প্রাঙ্গণের বাইরের দেয়াল ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে। এতে অন্তত ১০ জন নিহত হন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির নিহত হওয়ার খবরে পাকিস্তানজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

যুক্তরাষ্ট্রের দুই কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, মেরিন সেনাদের ছোড়া গুলিতে কেউ আহত বা নিহত হয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত নয়। এছাড়া কনস্যুলেটের নিরাপত্তায় নিয়োজিত বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মী কিংবা স্থানীয় পুলিশ গুলি চালিয়েছে কি না, সে বিষয়েও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

সিন্ধু প্রদেশ সরকারের মুখপাত্র সুখদেব আসারদাস হেমনানি জানিয়েছেন, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা গুলি চালিয়েছিলেন। তবে তিনি কোন বাহিনীর সদস্য তা নির্দিষ্ট করে বলেননি।

সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক মিশনগুলোর দৈনন্দিন নিরাপত্তার দায়িত্ব বেসরকারি ঠিকাদার ও স্থানীয় বাহিনী পালন করে থাকে। তবে এ ঘটনায় মেরিন সেনাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ পরিস্থিতির ভয়াবহতা প্রকাশ করছে বলে মনে করা হচ্ছে।

পাকিস্তান ইরানের পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম শিয়া সম্প্রদায়ের আবাসস্থল। সোমবার দেশজুড়ে বড় ধরনের সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। ইরান ইস্যুকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভে দেশব্যাপী ২৬ জন নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

রোববার কনস্যুলেটের বাইরে বিক্ষোভকারীরা ‘আমেরিকা নিপাত যাক’ ও ‘ইসরায়েল নিপাত যাক’ স্লোগান দেন। রয়টার্সের প্রতিবেদকরা গুলির শব্দ শুনেছেন এবং আশপাশের সড়কে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপের দৃশ্য দেখেছেন বলে জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে অন্তত একজন বিক্ষোভকারীকে কনস্যুলেটের দিকে অস্ত্র তাক করে গুলি ছুড়তে দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

করাচি পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, কনস্যুলেট ভবনের ভেতর থেকেও গুলি ছোড়া হয়েছিল।

এ ঘটনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য জানতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হলেও তাৎক্ষণিক কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। বিষয়টি পররাষ্ট্র দপ্তরে পাঠানো হয়েছে বলেও জানা গেছে।

এদিকে শিয়া সম্প্রদায়ের নেতারা লাহোর ও করাচিতে আরও বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন। জনসমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও তারা কর্মসূচির প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস রাজধানী ইসলামাবাদে অবস্থিত। পেশোয়ার ও লাহোরে রয়েছে দুটি কনস্যুলেট। করাচির কনস্যুলেটের আশপাশের সড়কে কঠোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। লাহোর ও ইসলামাবাদেও একই ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এনএফ৭১/একে



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top