ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ যুদ্ধ চালানোর সামর্থ্য কি ইসরায়েলের আছে?
আন্তজাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ৫ মার্চ ২০২৬, ১১:১৫
ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য ইসরায়েলের আছে কি না—এ প্রশ্ন এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, তারা দীর্ঘ সংঘাত সামাল দেওয়ার সক্ষমতা রাখে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের ক্ষেত্রে বাস্তবতা কিছুটা ভিন্ন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera–এর এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, গাজা, লেবানন ও সিরিয়ায় ধারাবাহিক সামরিক তৎপরতার পর ইরানের সঙ্গে নতুন করে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ায় ইসরায়েলের ওপর সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়ছে।
ইরানে হামলার পর থেকেই ইসরায়েলের বিভিন্ন শহর ঘন ঘন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে পড়ছে। রাজধানী Tel Aviv এবং বন্দরনগরী Haifa–সহ বিভিন্ন এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখা হয়েছে এবং হাজারো রিজার্ভ সেনাকে তলব করা হয়েছে। সাধারণ মানুষকে বারবার বাংকারে আশ্রয় নিতে হচ্ছে।
যুদ্ধের শুরুতে জনসমর্থন থাকলেও সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এর সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
Tel Aviv University–এর শিক্ষক Daniel Bar‑Tal বলেন, ইসরায়েলি সমাজে দীর্ঘদিন ধরেই ইরানকে প্রধান শত্রু হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ফলে অনেকেই এই যুদ্ধকে অস্তিত্বের লড়াই হিসেবে দেখছেন।
অন্যদিকে অর্থনীতিবিদ Shir Hever মনে করেন, চলমান পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক মেরুকরণ ও সামরিক মনোভাব আরও জোরদার হয়েছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—ইসরায়েল কত দিন উচ্চমাত্রার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সচল রাখতে পারবে। দেশটির তিন স্তরের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে আলাদা ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করে, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং এর মজুত সীমিত।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক Hamze Attar বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে এ ধরনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখা ইসরায়েলের জন্য কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তার মতে, ইরান যদি ধারাবাহিকভাবে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ও হামলা চালিয়ে যেতে পারে, তাহলে ইসরায়েলকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো রক্ষায় অগ্রাধিকার দিতে হতে পারে। এতে বেসামরিক জনগণের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
সব মিলিয়ে বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধ কত দিন চলবে তা নির্ভর করবে ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতা, যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা এবং ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র মজুত ও লঞ্চার সক্ষমতার ওপর। দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত ইসরায়েলের জন্য কৌশলগত ও অর্থনৈতিকভাবে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।