ইরানে হামলার জন্য ৫০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা অংশ নিচ্ছে: যুক্তরাষ্ট্র
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ৪ মার্চ ২০২৬, ১৩:১০
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে ৫০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা, প্রায় ২০০টি যুদ্ধবিমান এবং দুটি বিমানবাহী রণতরি অংশ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড) প্রধান জেনারেল ব্র্যাড কুপার। এক ভিডিও বার্তায় তিনি দাবি করেন, চার দিন ধরে চলা এ অভিযান মধ্যপ্রাচ্যে এক প্রজন্মের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক সমাবেশ।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযান শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনী ইরানের প্রায় দুই হাজার লক্ষ্যবস্তুতে দুই হাজারের বেশি অস্ত্র ব্যবহার করেছে। পাল্টা হিসেবে ইরান পাঁচ শতাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও দুই হাজারের বেশি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে ইরানের নৌবাহিনীর উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির দাবি করা হয় এবং অন্তত ১৭টি জাহাজ ধ্বংসের কথা বলা হয়।
সেন্টকম আরও জানায়, কুয়েতে একটি ট্যাকটিক্যাল অপারেশনস সেন্টারে ইরানি হামলায় ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে ইরানের রাজধানী তেহরান-সহ বিভিন্ন শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। পরমাণু ইস্যুতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলাকালে এ হামলা ঘটে। এতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ এবং বিপ্লবী গার্ডের কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর-সহ অন্তত ৪৮ জন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। খামেনিকে হত্যার পর হামলার তীব্রতা আরও বেড়েছে বলে জানা গেছে। সৌদি আরব ও কাতারসহ অন্তত ১০টি দেশে ইরানের হামলার খবর পাওয়া গেছে।
ইরানের ত্রাণ সংস্থা ইরানিয়ান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, যৌথ হামলায় এখন পর্যন্ত ১৭৬ শিশুসহ ৮০০ জনের বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে ‘ট্রু প্রমিজ ৪’ নামের প্রতিশোধমূলক অভিযানের প্রথম দুই দিনে ৬৫০ জনের বেশি মার্কিন সামরিক সদস্য নিহত বা আহত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
এর আগে, গত বছরের ১৩ জুন ইরানের পরমাণু স্থাপনা ও ড্রোন সক্ষমতাকে লক্ষ্য করে ইসরায়েল ব্যাপক বিমান হামলা চালায়, যাতে যুক্তরাষ্ট্রও অংশ নেয়। সে সময় ইরানের তিনটি প্রধান পরমাণু কেন্দ্রে আঘাতের দাবি করে পেন্টাগন। ১২ দিনের সংঘাত শেষে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত থাকে। বিশ্লেষকদের মতে, সেই যুদ্ধ-পরবর্তী অবিশ্বাস থেকেই বর্তমান সংকটের ভিত্তি তৈরি হয়েছে।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।