রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬, ২২ চৈত্র ১৪৩২

ইরানের হাতে পড়া ঠেকাতে নিজেদের ২ বিমান ধ্বংস করেছে যুক্তরাষ্ট্র!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:০১

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের হাতে সংবেদনশীল সামরিক সরঞ্জাম চলে যাওয়ার আশঙ্কায় নিজেদের দুটি পরিবহন বিমান ধ্বংস করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানে ভূপাতিত একটি যুদ্ধবিমানের পাইলটকে উদ্ধার করতে গিয়ে এই ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলো।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পাহাড়ি এলাকায় ভূপাতিত যুদ্ধবিমানের একজন পাইলট দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে ছিলেন। প্রায় ৩৬ ঘণ্টা লুকিয়ে থাকার পর রোববার ভোরে বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে তাকে উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার অভিযানের সময় নির্ধারিত দুটি পরিবহন বিমান ইরানের একটি দূরবর্তী ঘাঁটিতে বিকল হয়ে পড়ে। এতে থাকা সংবেদনশীল সরঞ্জাম যাতে ইরানের হাতে না পড়ে, সে জন্য সেগুলো ধ্বংস করার নির্দেশ দেন সংশ্লিষ্ট কমান্ডাররা। পরে বিকল্পভাবে আরও তিনটি বিমান পাঠিয়ে উদ্ধারকারী দল ও পাইলটকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়।

এদিকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী এবং পুলিশ আলাদাভাবে দাবি করেছে, তারা ইসফাহান অঞ্চলের কাছে একটি মার্কিন সহায়ক বিমান ভূপাতিত করেছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই বিমানটি ভূপাতিত পাইলটকে খোঁজার কাজে নিয়োজিত ছিল এবং এটি জ্বালানি সরবরাহে ব্যবহৃত হতো।

উদ্ধার অভিযানের সময় মার্কিন কমান্ডোদের সঙ্গে ইরানি বাহিনীর সরাসরি গোলাগুলির ঘটনাও ঘটে বলে জানা গেছে। একই সময়ে আকাশ থেকে ইরানি গাড়িবহরের ওপর হামলা চালানো হয়। তবে অভিযানে যুক্ত মার্কিন বাহিনীর কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

উদ্ধার হওয়া পাইলট একটি বিশেষ সংকেত যন্ত্র ও সুরক্ষিত যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন। আত্মরক্ষার জন্য তার কাছে একটি পিস্তল ছাড়া আর কোনো ভারী অস্ত্র ছিল না বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরান একাধিকবার মার্কিন বিমান ভূপাতিত করার দাবি করলেও, সেসব তথ্যের সবগুলো এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সংশ্লিষ্ট এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা এই উদ্ধার অভিযানকে অত্যন্ত জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এতে বিপুল সংখ্যক বিশেষ বাহিনী, যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার এবং গোয়েন্দা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ব্যবহার করা হয়।

এছাড়া গোয়েন্দা সংস্থাও অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে জানা গেছে। তারা বিভিন্ন কৌশল প্রয়োগ করে পাহাড়ি অঞ্চলে লুকিয়ে থাকা পাইলটের অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।

এনএফ৭১/একে



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top