ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে বোনের কঙ্কাল কাঁধে নিয়ে হাজির ভাই
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৭:০৫
ভারতের ওড়িশা রাজ্যের কেওনঝর জেলায় এক অস্বাভাবিক ও আলোচিত ঘটনার জন্ম দিয়েছেন এক ব্যক্তি। মৃত বোনের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলতে না পেরে শেষ পর্যন্ত তিনি বোনের কবর খুঁড়ে কঙ্কাল কাঁধে নিয়ে ব্যাংকে উপস্থিত হন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দিয়ানালী গ্রামের আদিবাসী বাসিন্দা জিতু মুন্ডার বোন কাঁকড়া মুন্ডা প্রায় দুই মাস আগে মারা যান। স্বামী ও সন্তান আগেই মৃত্যুবরণ করায় পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য ছিলেন জিতু। ফলে তিনি বোনের সম্পত্তির বৈধ উত্তরাধিকারী হন বলে দাবি করা হয়।
পরবর্তীতে জিতু জানতে পারেন, ওড়িশা গ্রামীণ ব্যাংকে তার বোনের নামে থাকা অ্যাকাউন্টে ১৯ হাজার ৩০০ টাকা জমা রয়েছে। সেই টাকা তুলতে গেলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তার কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, বিশেষ করে মৃত্যুসনদ ও আইনি উত্তরাধিকার প্রমাণপত্র দাবি করে। নথি ছাড়া টাকা প্রদান সম্ভব নয় বলে জানানো হয়।
স্থানীয়দের দাবি, আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে অজ্ঞ এবং শিক্ষা কম থাকায় জিতু বিষয়টি ঠিকভাবে বুঝতে পারেননি। বারবার বোঝানোর পরও তিনি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হন। এতে হতাশ হয়ে তিনি চরম পদক্ষেপ নেন।
সোমবার তিনি গ্রামের কবরস্থানে গিয়ে বোনের কবর খুঁড়ে কঙ্কাল বের করেন এবং কাপড়ে মুড়ে কাঁধে নিয়ে প্রায় ৩ থেকে ৪ কিলোমিটার পথ হেঁটে ব্যাংকে যান। ঘটনাটি দেখে উপস্থিত লোকজন আতঙ্কিত ও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।
স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ চাইলে স্থানীয়ভাবে যাচাই বা গ্রামপ্রধানের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারত। তা না করায় একজন অসহায় মানুষকে এমন পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। জিতুকে শান্ত করা হয় এবং বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেও ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, এই ঘটনা শুধু সচেতনতার অভাব নয়, বরং প্রশাসনিক ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার মানবিক দিকের দুর্বলতাও প্রকাশ করেছে।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।