২০ বছর আগে গিলে ফেলা থার্মোমিটার অস্ত্রোপচারে উদ্ধার
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ২০:০৩
চীনে ৩২ বছর বয়সী এক ব্যক্তি পেটব্যথার চিকিৎসা নিতে গিয়ে এমন এক চমকপ্রদ তথ্য জানতে পারেন, যা তাকে ও চিকিৎসকদেরও বিস্মিত করে। তার শরীরেই ছিল শৈশবে গিলে ফেলা একটি পারদভর্তি থার্মোমিটার, যা প্রায় ২০ বছর ধরে পেটের ভেতর অবস্থান করছিল। অবশেষে মাত্র ২০ মিনিটের এক অস্ত্রোপচারে সেটি সফলভাবে বের করে আনেন চিকিৎসকেরা।
চীনা সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ঝেজিয়াং প্রদেশের ওয়েনঝৌ শহরের ওই ব্যক্তি চিকিৎসার জন্য স্থানীয় একটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের শাখায় যান। পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও স্ক্যান করার সময় তার বৃহদন্ত্রে অস্বাভাবিক একটি বস্তু শনাক্ত হয়, যা পরে থার্মোমিটার বলে নিশ্চিত হন চিকিৎসকেরা।
চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, থার্মোমিটারের একটি অংশ অন্ত্রের দেয়ালে চাপ সৃষ্টি করছিল। এতে যেকোনো সময় অন্ত্রে ছিদ্র হওয়া কিংবা ভেতরে গুরুতর রক্তক্ষরণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারত।
ওই ব্যক্তি জানান, মাত্র ১২ বছর বয়সে তিনি দুর্ঘটনাবশত থার্মোমিটারটি গিলে ফেলেছিলেন। তখন ভয়ে তিনি বিষয়টি পরিবারের কাউকে জানাননি। কোনো উপসর্গ না থাকায় ঘটনাটি ধীরে ধীরে তার জীবন থেকে আড়াল হয়ে যায়।
পরবর্তীতে চিকিৎসকেরা এন্ডোস্কপিক পদ্ধতিতে মাত্র ২০ মিনিটের অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে থার্মোমিটারটি বের করে আনেন। দীর্ঘদিন শরীরের ভেতরে থাকার কারণে এটি পিত্তনালির কাছাকাছি অবস্থানে চলে গিয়েছিল, ফলে অস্ত্রোপচারটি ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
অস্ত্রোপচারের পর দেখা যায়, থার্মোমিটারটি অক্ষত থাকলেও এর ভেতরের দাগগুলো অনেকটাই মুছে গেছে।
চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, শরীরের ভেতরে কোনো অজানা বস্তু প্রবেশ করলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। দেরি না করে হাসপাতালে যাওয়া এবং খাওয়া-দাওয়া বন্ধ রাখা উচিত।
চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, চীনে প্রতিবছরই অসংখ্য মানুষ ভুলবশত বিভিন্ন বস্তু গিলে ফেলার পর চিকিৎসা নিতে যান। এর মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধদের সংখ্যা বেশি। মাছের কাঁটা, ব্যাটারি, চুম্বক ও হাড়জাতীয় বস্তু এমন ঘটনার মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়।
এর আগে মধ্য চীনে আরেকটি অবাক করা ঘটনা ঘটে, যেখানে ৬৪ বছর বয়সী এক ব্যক্তি শৈশবে গিলে ফেলা টুথব্রাশ ৫২ বছর পর চিকিৎসকের কাছে গিয়ে শনাক্ত হয়।
এ ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই এটিকে অবিশ্বাস্য সৌভাগ্য বলে মন্তব্য করেছেন, কারণ এত বছর শরীরের ভেতরে থাকার পরও থার্মোমিটারটি ভাঙেনি এবং বড় কোনো ক্ষতি হয়নি। সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট
এনএফ৭১/একে
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।