হরমুজে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ইরানের পাল্টা হামলা, বাড়ছে উত্তেজনা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ৮ মে ২০২৬, ০৯:৪৩
ইরানের জলসীমায় একটি তেলবাহী ট্যাংকারে মার্কিন হামলার জেরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজে পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। এ ঘটনার পর ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান নাজুক যুদ্ধবিরতি নতুন করে উত্তেজনার মুখে পড়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, কেশম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস, মিনাব ও হরমুজগান প্রদেশের সিরিক শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
অন্যদিকে, ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে চালানো হামলাকে ‘মৃদু টোকা’ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলেও যুদ্ধবিরতি এখনো বহাল রয়েছে।
বৃহস্পতিবার ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর এক বিবৃতিতে অভিযোগ করে, যুক্তরাষ্ট্র আঞ্চলিক কয়েকটি দেশের সহযোগিতায় ইরানের বিভিন্ন বেসামরিক এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে কেশম দ্বীপও রয়েছে। বিবৃতিতে মার্কিন বাহিনীকে ‘আগ্রাসী’ ও ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়, তারা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে।
ইরানি সামরিক বাহিনীর দাবি, পাল্টা হামলায় মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অভিযানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, জাহাজবিধ্বংসী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং উচ্চ বিস্ফোরক ক্ষমতাসম্পন্ন ড্রোন ব্যবহার করেছে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড ইরানের এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের ভাষ্য, ইরানের হামলা প্রতিহত করা হয়েছে এবং আত্মরক্ষার্থে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মার্কিন কোনো সামরিক সম্পদের ক্ষতি হয়নি বলেও দাবি করেছে তারা।
যুক্তরাষ্ট্র আরও জানিয়েছে, তারা নতুন করে উত্তেজনা চায় না। তবে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে।
উল্লেখ্য, ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক অবরোধের জবাবে এটিকে তেহরানের প্রথম সামরিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত কয়েক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র কয়েকটি ইরানি জাহাজ জব্দ করেছে। গত মাসে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।