ফেনীতে পরকীয়া সন্দেহে স্ত্রীর ওপর স্বামীর নৃশংস হামলা, স্ত্রী ও বান্ধবীর হাত বিচ্ছিন্ন
মিজানুর রহমান | প্রকাশিত: ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:৫৬
ফেনী শহরের আদালতপাড়া এলাকায় দাম্পত্য কলহের জেরে এক নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটেছে। স্বামী সুজন (২৭) ধারালো রামদা দিয়ে কোপানোয় তার স্ত্রী ফিরোজা আক্তার (২৩) ও তার বান্ধবী আফসানা আক্তারের (৩০) হাতের আঙুল বা কব্জি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ফেনী শহরের হাজারী রোডস্থ ওয়াতান ল্যাবে কর্মরত ফিরোজা এবং আফসানা ওই বাসায় একত্রে ভাড়া থাকতেন। দীর্ঘদিন ধরে ফিরোজার সঙ্গে তার স্বামী সুজনের পারিবারিক বিরোধ চলছিল। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সুজন হঠাৎ বাসায় ঢুকে ধারালো রামদা দিয়ে স্ত্রীকে কোপাতে শুরু করেন।
ফিরোজার চিৎকারে এগিয়ে আসা বান্ধবী আফসানাকেও সুজন এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। এতে আফসানার বাম হাত কব্জি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং ফিরোজার বাম হাতের চারটি আঙুল শরীর থেকে আলাদা হয়ে যায়।
স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে সুজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। গুরুতর আহত উভয়কে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। জরুরি বিভাগের ডাক্তাররা জানিয়েছেন, তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে।
ফেনী মডেল থানা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে ঝোপের আড়াল থেকে হামলায় ব্যবহৃত রক্তমাখা রামদাটি উদ্ধার করেছে। পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুজন স্বীকার করেছে যে, স্ত্রীর পরকীয়ার সন্দেহে সে এই নৃশংস হামলা চালিয়েছে।
সুজন কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের চিওড়া এলাকার মৃত সুরুজ মিয়ার ছেলে এবং পেশায় একজন সিএনজি অটোরিকশাচালক। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ মামলা দায়েরসহ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।