আসন্ন জাতীয় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে খুলনা–৫ (ডুমুরিয়া–ফুলতলা) আসনে শেষ মুহূর্তের প্রচার–প্রচারণা জমে উঠেছে। বিএনপি ও জামায়াত মনোনীত প্রার্থীসহ বিভিন্ন দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও পথসভায়।
ডুমুরিয়া ও ফুলতলা—এই দুটি উপজেলা নিয়ে গঠিত খুলনা–৫ আসনটি স্বাধীনতার পর থেকেই আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াত—এই তিন দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতার কেন্দ্রবিন্দু। অতীত নির্বাচনের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গড় ভোটের ব্যবধানে বিএনপি দ্বিতীয় ও জামায়াত তৃতীয় অবস্থানে থেকেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জামায়াতের সম্ভাব্য জয়ের বড় অংশ নির্ভর করছে আওয়ামী লীগপন্থী ভোটারদের অবস্থানের ওপর।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, খুলনা–৫ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ২ হাজার ৭৯৮ জন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ সনাতনী সম্প্রদায়ের ভোটার, যা নির্বাচনের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী আসগার লবি। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মাঠে রয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার। এছাড়া জাতীয় পার্টির শারমিন আরা পারভীন এবং বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির চিত্তরঞ্জন গোলদারও নির্বাচনী লড়াইয়ে আছেন।
ভোটারদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ আসনে মূলত দ্বিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনাই বেশি। যে প্রার্থী আওয়ামী লীগপন্থী ভোটারদের সমর্থন নিজেদের পক্ষে টানতে পারবেন, জয়ের পাল্লা তাঁর দিকেই ভারী হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ডুমুরিয়া উপজেলার শোভনা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির শেখ মোসলেম উদ্দিন দাবি করেন, জামায়াতের কর্মকাণ্ডে আস্থা রেখে আওয়ামী লীগের একটি অংশ ইতোমধ্যে তাদের সমর্থন দিচ্ছে, যা দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে ইতিবাচক ইঙ্গিত।
অন্যদিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবু সাঈদ সরদার বলেন, ভোট বর্জন বিষয়ে এখনো দলীয় কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে এবং কর্মীদের মতামত নেওয়া হচ্ছে।
এলাকার সাধারণ ভোটারদের কাছে সবচেয়ে বড় ইস্যু হিসেবে উঠে এসেছে স্থায়ী জলাবদ্ধতা সমস্যা। রংপুর গ্রামের সমাজকর্মী কাজল বিশ্বাস ও গৃহবধূ প্রমীলা রানী বিশ্বাস বলেন, বিল ডাকাতিয়াসহ আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা মানুষের ভোগান্তির প্রধান কারণ। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্মিত ব্লুইসগেটগুলো অকেজো হয়ে পড়ায় বছরের বেশিরভাগ সময়ই পানি জমে থাকে। অতীতে প্রার্থীরা প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। এবার তারা এমন প্রার্থী চান, যিনি স্থায়ী সমাধানে কাজ করবেন।
বিএনপির প্রার্থী আলী আসগার লবি বলেন, জলাবদ্ধতা এ অঞ্চলের মানুষের জীবনে বড় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। নির্বাচিত হলে নদী–খাল খননসহ পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণই হবে তাঁর প্রথম অগ্রাধিকার।
অপরদিকে জামায়াত প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, পূর্ববর্তী মেয়াদে সংসদ সদস্য থাকাকালে তিনি প্রায় ৩৫০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ করেছেন। পুনরায় নির্বাচিত হলে স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা দূর করা এবং ইনসাফভিত্তিক শাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
সব মিলিয়ে খুলনা–৫ আসনে প্রার্থীদের ভাগ্য অনেকটাই নির্ভর করছে সনাতনী ও আওয়ামীপন্থী ভোটারদের অবস্থান এবং স্থানীয় উন্নয়ন ইস্যুগুলোর ওপর।
পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।