পতাকা উত্তোলনের পর খুলনায় আ.লীগের কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:৫৬
গণঅভ্যুত্থানের পর দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত ও আদালতের নির্দেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ-এর খুলনা মহানগর কার্যালয়ে উসকানিমূলক তৎপরতার পর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাতের বেলায় কার্যালয়টিতে আগুন দেওয়া হয়।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নগরীর লোয়ার যশোর রোড-এর শঙ্খ মার্কেট এলাকায় অবস্থিত আওয়ামী লীগের খুলনা মহানগর কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মী কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। তারা সেখানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান-এর ছবিতে ফুলের মালা দেন। এ সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগানও দেওয়া হয়।
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কার্যালয়ে উপস্থিতির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে রাতে অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ছাত্ররা সেখানে যান। একপর্যায়ে তারা কার্যালয়ের দরজা ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেন। তবে ফায়ার সার্ভিস পৌঁছানোর আগেই আগুন নিভে যায়।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে সোনাডাঙ্গা থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক টি এম আরিফ হোসেন, সদর থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়েজুল হক রুবেল, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা জাহাঙ্গীর হোসেন, জাকির হাসানসহ ১০–১২ জন নেতাকর্মীকে শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবিতে ফুলের মালা দিতে দেখা যায়। এ সময় কয়েকজনের হাতে ছোট জাতীয় পতাকাও ছিল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খুলনা মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতা বলেন,“কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা ছাড়াই আমরা সেখানে গিয়েছি। বিকেলে ভাঙা তালা খুলে ওপরে উঠে পতাকা টাঙাই, ছবিতে ফুলের মালা ও স্লোগান দিয়ে আবার নিচে নেমে নতুন তালা লাগিয়ে চলে যাই।”
খুলনা সদর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, “এত দিন একটি অবৈধ সরকার ছিল, মবের রাজত্ব চলছিল। এখন রাজনৈতিক সরকার এসেছে। আমাদের রাজনৈতিক অধিকার আছে। আমরা মনে করছি, কার্যালয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। নির্বাচিত সরকার একটি বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে আমাদের রাজনীতি করার সুযোগ দেবে।”বৈষম্য বিরোধী ছাত্র
আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আহমদ হামিম রাহাত বলেন, “নির্বাচন শেষ হওয়ার দুই দিনের মাথায় এমন ঘটনা আমাদের উদ্বিগ্ন করেছে। সংগঠনটি আদালতের নির্দেশে সাময়িক নিষিদ্ধ। সব ধরনের রাজনৈতিক তৎপরতা স্থগিত। এর পেছনে নিশ্চয়ই কারো ইন্ধন রয়েছে।”
খুলনা সদর থানার ওসি মো. কবির হোসেন বলেন, “রাতে তালা ভেঙে কার্যালয়ে প্রবেশ করে কয়েকজন ব্যক্তি। ঘটনাস্থলে প্রত্যক্ষদর্শী কাউকে পাওয়া যায়নি। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ যাচাই করে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। রাতে ছাত্ররা সেখানে আগুন দেয়, তবে ফায়ার সার্ভিস আসার আগেই আগুন নিভে যায়।”
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।