বিবিসি বাংলার কাছে ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চাইলেন জুলাই যোদ্ধা মাহদী
নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১১ মার্চ ২০২৬, ০০:২৯
ভুয়া ও মানহানিকর সংবাদ প্রকাশের অভিযোগে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির বাংলা বিভাগকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন হবিগঞ্জের আলোচিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মাহদী হাসান। নোটিশে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন অপসারণ ও প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানানো হয়েছে। অন্যথায় সংবাদমাধ্যমটির বিরুদ্ধে ১ কোটি টাকার মানহানির মামলা দায়ের করা হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
রোববার মাহদী হাসানের পক্ষে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এস এম শাহরিয়ার কবির এই নোটিশ পাঠান। নোটিশটি পাঠানো হয়েছে বিবিসির মহাপরিচালক টিম ডেভি এবং বিবিসি বাংলার প্রধান সম্পাদক মীর সাব্বিরের কাছে।নোটিশে বলা হয়, মাহদী হাসান ২০২৪ সালের জুলাই মাসে সংঘটিত ছাত্র আন্দোলনের সময় সম্মুখসারির একজন সক্রিয় সংগঠক ছিলেন এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার সাহসী ভূমিকা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে বলে এতে উল্লেখ করা হয়।
নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় (ওএইচসিএইচআর) প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসের আন্দোলন চলাকালে বিভিন্ন মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে।আইনি নোটিশে বলা হয়েছে, গত ২১ ফেব্রুয়ারি বিবিসি বাংলা “মাহদী হাসানের সঙ্গে দিল্লিতে ঠিক কী হয়েছিল?” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। অভিযোগ করা হয়, ভারতের দুটি অপ্রকাশিত গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তৈরি ওই প্রতিবেদনে মাহদী হাসান সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর।
নোটিশে দাবি করা হয়েছে, প্রতিবেদনে বলা হয়েছে মাহদী হাসান পর্তুগালের ভিসা নেওয়ার উদ্দেশ্যে বিদেশে গিয়েছিলেন, বিমানবন্দরের কাছাকাছি একটি হোটেলে রাত কাটিয়েছিলেন এবং তার কাছে ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ডিজিটাল মুদ্রা ছিল। এসব তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা ও যাচাইবিহীন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি এক পুলিশ কর্মকর্তা এসআই সন্তোষ চৌধুরীর হত্যার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যা তার আইনজীবীর দাবি অনুযায়ী সম্পূর্ণ অসত্য এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা।
এ ধরনের তথ্য প্রকাশের ফলে মাহদী হাসান সামাজিক অপমান, সাইবার আক্রমণ এবং প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হয়েছেন বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া গত ২৪ ফেব্রুয়ারি অনুসন্ধানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ডিসেন্ট’ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যেখানে বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে উত্থাপিত বিভিন্ন তথ্যকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে এবং মাহদী হাসানের পক্ষে কিছু প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে বলে নোটিশে দাবি করা হয়।
আইনি নোটিশে আরও বলা হয়, এই ভ্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের কারণে মাহদী হাসান গুরুতর মানসিক কষ্ট, সামাজিক মর্যাদাহানি এবং আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। এটি বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৪৯৯ ধারা অনুযায়ী মানহানি এবং ৫০০ ধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
নোটিশে দাবি করা হয়েছে, ২১ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত প্রতিবেদনটি দ্রুত অপসারণ করতে হবে এবং বিবিসি বাংলার সব প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিবেদনের উৎস অনিশ্চিত ও যাচাইবিহীন ছিল—এ বিষয়টি স্বীকার করতে হবে।
নোটিশে বলা হয়েছে, চিঠি পাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এসব পদক্ষেপ না নিলে বিবিসির বিরুদ্ধে মানহানি, আর্থিক ক্ষতিপূরণ এবং সাইবার নিরাপত্তা অধ্যাদেশ ২০২৫ অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নোটিশের শেষাংশে বলা হয়, তাদের উদ্দেশ্য শুধু আইনি পদক্ষেপ নেওয়া নয়, বরং সত্য প্রকাশ করা এবং ক্লায়েন্টের ক্ষতির যথাযথ প্রতিকার নিশ্চিত করা।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।