বাস ডিপোতে ভাঙচুরের প্রতিবাদে ভোলায় বাস শ্রমিকদের আন্দোলন
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ৯ মার্চ ২০২৬, ১৬:১৪
ভোলার চরফ্যাশনে বাস মালিক সমিতির ডিপো থেকে বাস সরিয়ে দেওয়া, কাউন্টার ভাঙচুর এবং সুপারভাইজারকে হেনস্তার প্রতিবাদে ভোলার অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন রুটে অনির্দিষ্টকালের বাস ধর্মঘট শুরু করেছেন শ্রমিকরা। একই সঙ্গে তারা ভোলা বীর শ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ভোলা–চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে যান চলাচল বন্ধ করে দেন।
সোমবার (৯ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ভোলা জেলা বাস শ্রমিক ইউনিয়ন এ ধর্মঘটের ঘোষণা দেয়। পরে দুপুর ২টার দিকে পুলিশের অনুরোধে শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ তুলে নিলেও বাস ধর্মঘট অব্যাহত রাখেন।
ঈদ সামনে রেখে হঠাৎ বাস ধর্মঘটের কারণে ভোলা জেলার সাত উপজেলার শত শত যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
বাস শ্রমিকদের অভিযোগ, সকাল ১০টার দিকে চরফ্যাশনের টিবি স্কুলের সামনে সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকরা একটি বাস আটকে চালক ও হেলপারকে মারধর করেন। একই সময় চরফ্যাশন বাজারে বাস মালিক সমিতির ডিপো থেকে বাস বের করে দেওয়া হয়। এ সময় কাউন্টার ভাঙচুর এবং সুপারভাইজারকে হেনস্তার ঘটনাও ঘটে বলে দাবি করেন তারা।
শ্রমিকদের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো বাস চালানো হবে না। তারা আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই বাস শ্রমিকদের ওপর হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটছে। অথচ মহাসড়কে তিন চাকার যান চলাচলে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও সেগুলো চলাচল করছে।
ভোলা জেলা বাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নান বলেন, কথায় কথায় সিএনজি চালকরা বাসের চালক ও হেলপারদের মারধর করে। অবৈধভাবে চলাচল করেও তারা বাস চলাচলে বাধা দিচ্ছে। চরফ্যাশন বাজারে বাস মালিক সমিতির নিজস্ব ডিপো থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন সময় বাজারে বাস ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়।
এদিকে ভোলা বাস মালিক সমিতির ডিপো কর্মকর্তা অসীম দত্ত জানান, সিএনজি চালিত অটোরিকশার নেতারা জোরপূর্বক বাস মালিক সমিতির ডিপো থেকে বাস বের করে দেন। এ সময় কাউন্টার ভাঙচুর এবং সুপারভাইজারকে হেনস্তা করা হয়। এর প্রতিবাদেই শ্রমিকরা আন্দোলনে নেমেছেন।
তবে ভোলা জেলা সিএনজি ও হালকা যান মালিক সমিতির সভাপতি মো. মাকসুদুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সিএনজি চালকদের মারধরের অভিযোগ সঠিক নয়। তাদের কেউ ডিপো থেকে বাস বের করেনি। উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করায় বাস সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ভোলা শহর যানবাহন শাখার পুলিশ পরিদর্শক মো. আবদুল গণি জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে সড়ক অবরোধ তুলে দেয়। বর্তমানে বাস ও সিএনজি চলাচল বন্ধ থাকলেও অন্যান্য যানবাহন স্বাভাবিকভাবে চলাচল করছে।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।