আদালত থেকে বের হয়েই নিখোঁজ, ৯ ঘন্টা পর মিললো বস্তাবন্দি মরদেহ
গাজীপুর প্রতিনিধি | প্রকাশিত: ১১ মার্চ ২০২৬, ১১:৫৬
গাজীপুরে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সংগঠনের জেলা শাখার সহসভাপতি কামরুজ্জামান মোল্লার হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত বুধবার গভীর রাতে নগরীর পূর্ব ধীরাশ্রম এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত কামরুজ্জামান মোল্লা (৬৫) গাজীপুরের ৫০ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার বাসিন্দা। তিনি পরিবারসহ রাজধানীর উত্তরা এলাকায় বসবাস করতেন। সুশাসনের জন্য নাগরিক সংগঠনের গাজীপুর জেলা শাখার সহসভাপতির দায়িত্বে থাকার পাশাপাশি তিনি ঠিকাদারি ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল সাতটার দিকে তিনি নিজ বাসা থেকে গাজীপুর আদালতে একটি মামলার কাজে যান। তবে নির্ধারিত বিচারক উপস্থিত না থাকায় সেদিন আদালতের কার্যক্রম হয়নি। পরে তিনি আইনজীবীর কার্যালয় থেকে বের হওয়ার পর আর বাসায় ফেরেননি।
রাত গভীর হলেও তিনি বাসায় না ফেরায় স্বজনেরা উদ্বিগ্ন হয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে গভীর রাতে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধারের খবর পরিবারকে জানায়।
পুলিশ জানায়, বুধবার রাত এগারোটার আগের কোনো এক সময়ে দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যা করে। হত্যার পর হাত-পা বেঁধে কাপড়ে মুড়িয়ে ধীরাশ্রম এলাকার একটি সড়কের পাশে মরদেহ ফেলে রেখে যায়।
পথচারীরা সড়কের পাশে বস্তাবন্দি মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
সুশাসনের জন্য নাগরিক সংগঠনের গাজীপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ইফতেখার শিশির বলেন, নিহত কামরুজ্জামান মোল্লা তাদের সংগঠনের একজন দায়িত্বশীল নেতা ছিলেন। কী কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
নিহতের ছোট ভাই কবিরুল ইসলাম জানান, তাদের জানা মতে কারও সঙ্গে তার ব্যক্তিগত কোনো বিরোধ ছিল না। তবে ব্যবসায়িক লেনদেনকে কেন্দ্র করে শত্রুতা থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে গাজীপুর সদর থানার এক উপপরিদর্শক বলেন, প্রাথমিকভাবে পূর্বশত্রুতার জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহতের ছেলে কৌশিক জামান বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেছেন। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।