খুলনায় হামের উপসর্গে শিশু ভর্তি ২০০ ছাড়াল, নেই আইসিইউ-ভেন্টিলেটর সুবিধা
খুলনা প্রতিনিধি | প্রকাশিত: ৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:০২
খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি শিশু রোগীর সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়েছে। প্রতিদিনই এই সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২ এপ্রিল পর্যন্ত ১৮০ শিশু হাসপাতালে ভর্তি থাকলেও ৩ এপ্রিল নাগাদ এ সংখ্যা দুইশ’ ছাড়িয়ে গেছে। তবে সব জেলার তথ্য একসঙ্গে না পাওয়ায় আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া সম্ভব হয়নি।
জেলা ভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি রোগী কুষ্টিয়ায়। এছাড়া যশোর, ঝিনাইদহসহ অন্যান্য জেলাতেও আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা বাড়ছে।
এদিকে কুষ্টিয়ায় হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া ৮ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার ভোরে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, শিশুটির অবস্থা শুরু থেকেই গুরুতর ছিল এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।
চিকিৎসকরা বলছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। হাঁচি-কাশির মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। যেসব শিশু টিকা নেয়নি বা অপুষ্টিতে ভুগছে, তারা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশু বিভাগের প্রধান জানান, রোগীর চাপ সামাল দিতে হাসপাতালটিতে অস্থায়ী আইসোলেশন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। তবে ৪৮ শয্যার বিপরীতে দুই শতাধিক শিশু চিকিৎসাধীন থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—খুলনার কোনো সরকারি হাসপাতালে শিশুদের জন্য আইসিইউ বা ভেন্টিলেটর সুবিধা নেই। ফলে জটিল অবস্থায় থাকা শিশুদের ঢাকায় স্থানান্তর করতে হচ্ছে অথবা ব্যয়বহুল বেসরকারি হাসপাতালের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, যা নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য প্রায় অসম্ভব।
এদিকে খুলনা জেনারেল হাসপাতালসহ কয়েকটি সরকারি হাসপাতালের কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পর্যাপ্ত শয্যা থাকা সত্ত্বেও রোগীদের অন্যত্র পাঠানো হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক জানান, হামের উপসর্গে আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজন দ্রুত টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।