সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩

একদিনে বজ্রপাতে ঝরে গেল ১৫ প্রাণ, ৮ জেলায় শোকের মাতম

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪১

সংগৃহীত

রোববার (২৬ এপ্রিল) দেশের বিভিন্ন জেলায় বজ্রপাতের ভয়াবহ ঘটনায় অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত গাইবান্ধা, সিরাজগঞ্জ, জামালপুর, ঠাকুরগাঁও, বগুড়া, নাটোর, পঞ্চগড় ও শেরপুর জেলায় এসব ঘটনা ঘটে। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন, পাশাপাশি গবাদিপশুরও প্রাণহানি ঘটেছে।

গাইবান্ধায় সবচেয়ে বেশি পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ ধোপাডাঙ্গা গ্রামে বিকেলে হঠাৎ বজ্রপাতে একই স্থানে তিনজন—দুই কিশোর ও এক তরুণ—প্রাণ হারান। এ ঘটনায় একজন আহত হন এবং একটি গরুও মারা যায়। এছাড়া ফুলছড়িতে ঘোড়ার গাড়ি চালানোর সময় বজ্রপাতে এক যুবক ঘোড়াসহ মারা যান। সাঘাটা উপজেলায় ছাগল দেখতে গিয়ে বজ্রাঘাতে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়।

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ ও রায়গঞ্জ উপজেলায় মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। ঝড়-বৃষ্টির মধ্যেই কৃষিকাজ করার সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে তারা ঘটনাস্থলেই মারা যান।

জামালপুরের সদর ও মেলান্দহ উপজেলায় বজ্রপাতে দুইজনের মৃত্যু হয়। গরু চরাতে গিয়ে এক ব্যক্তি মারা যান। অন্যদিকে বাড়ির উঠানে রান্না করার সময় বজ্রাঘাতে গুরুতর আহত হয়ে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আরও একজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বগুড়ার গাবতলীতে জমি থেকে ছাগল আনতে গিয়ে বজ্রপাতে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলায় পৃথক ঘটনায় দুইজন প্রাণ হারান। নাটোরের সিংড়া উপজেলায় ধান কাটার সময় বজ্রপাতে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

পঞ্চগড়ে চা-বাগানে কাজ করার সময় বজ্রপাতে এক শ্রমিক নিহত হয়েছেন এবং আরও দুইজন আহত হয়েছেন। শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রাঘাতে এক শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে।

এছাড়া রাজধানীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বজ্রপাতে দুই নারী শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন এবং তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এই আকস্মিক বজ্রপাতের ঘটনায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ বা উঁচু স্থানে অবস্থান না করে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়া অত্যন্ত জরুরি।

 

এনএফ৭১/ওতু



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top