জুতাপেটার শিকার সেই শিক্ষিকার অপসারণে বিএনপি নেতাদের আলটিমেটাম
সারাদেশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ২১:১৭
রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দাওকান্দি সরকারি কলেজে শিক্ষিকা ও অধ্যক্ষকে মারধরের ঘটনার পর এবার তাদের অপসারণের দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা।
শনিবার দুপুরে রাজশাহী শহরের সাহেববাজার এলাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান তারা।
এর আগে বৃহস্পতিবার কলেজে ঢুকে অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাককে তার কক্ষে মারধর ও ভাঙচুর চালানো হয়। একই সময় নারী প্রদর্শক আলেয়া খাতুন হীরাকে জুতাপেটা করে গুরুতর আহত করা হয়। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা দ্রুত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নেতারা দাবি করেন, ঘটনাটি গণমাধ্যমে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য, কলেজে দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে জবাবদিহি চাইতে গেলে উল্টো তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় এবং প্রথমে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।
স্থানীয় বিএনপি নেতা আব্দুস সামাদ বলেন, “আমাদের চাঁদাবাজ হিসেবে দেখানো হয়েছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমরা চাই ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অধ্যক্ষ ও প্রদর্শকের অপসারণ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।”
অন্যদিকে, ভুক্তভোগী প্রদর্শক আলেয়া খাতুন হীরা অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সময় কলেজে এসে চাঁদা দাবি করতেন অভিযুক্তরা। সর্বশেষ মাহফিলের নামে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয়। এতে বাধা দিলে তাকে মারধর করা হয়।
তিনি জানান, হামলার সময় তার একটি দাঁত ভেঙে গেছে এবং আরও দুটি দাঁত নড়ে গেছে। এমনকি ভিডিও ধারণ করায় তার ফোনও ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন পক্ষ তার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। তিনি তা প্রত্যাখ্যান করায় এই বিরোধের সৃষ্টি হয়।
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানের জমি থেকে ভালো আয় হওয়ায় আগে থেকেও বিভিন্ন সময়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ ছিল। তবে বর্তমান অধ্যক্ষ সেই ধারা বন্ধ করার চেষ্টা করলে একটি চক্র ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।
ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত শাহাদ আলী দাবি করেন, তর্কের জেরে উত্তেজিত হয়ে তিনি ওই কাজ করেছেন। তবে পরিকল্পিত হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।
এদিকে, ঘটনার পর রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বর্তমানে বাসায় বিশ্রামে রয়েছেন আহত শিক্ষিকা। অধ্যক্ষও প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
রাজশাহী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন জানান, ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।