দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি মাত্র ২৩ ঘণ্টা সচল থাকার পর আবারও বন্ধ হয়ে গেছে।
শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে কেন্দ্রটি পুনরায় চালু হয়। এরপর শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত থাকে। তবে একই দিন সন্ধ্যা ৭টা ২৭ মিনিটে হঠাৎ করেই আবারও উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।
এর আগে টানা ছয় দিন বন্ধ থাকার পর শুক্রবার রাতে কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট থেকে উৎপাদন শুরু করা হয়েছিল।
কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, টিউব লিকেজজনিত সমস্যার কারণে উৎপাদন বন্ধ করতে হয়েছে। বন্ধ হওয়ার আগে প্রথম ইউনিটটি জাতীয় গ্রিডে প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করছিল।
তিনি আরও জানান, কেন্দ্রটির একটি ইউনিট কখনো চালু হচ্ছে, আবার বিভিন্ন ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ফলে সীমিত পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে।
এদিকে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ আলম জানিয়েছেন, কয়লা সংরক্ষণ সংক্রান্ত সমস্যার দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে। উৎপাদিত কয়লা অন্যত্র সংরক্ষণের বিষয়েও কর্তৃপক্ষ চিন্তাভাবনা করছে।
জানা যায়, স্থানীয় কয়লার ব্যবহার নিশ্চিত করতে ২০০৬ সালে ৫২৫ মেগাওয়াট সক্ষমতার এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চালু করা হয়। শুরুতে দুটি ইউনিটে ১২৫ মেগাওয়াট করে উৎপাদন শুরু হয়।
পরে ২০১৭ সালে আরও একটি ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ইউনিট যুক্ত করা হয়। তবে যান্ত্রিক ত্রুটি ও অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে কেন্দ্রটি কখনোই পূর্ণ সক্ষমতায় ধারাবাহিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারেনি।
ফলে বারবার বন্ধ ও স্বল্প সময়ের উৎপাদনে জাতীয় গ্রিডে প্রত্যাশিত সরবরাহ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।