সংঘাতের জেরে তেলের দাম ১৫০ ডলারে যাওয়ার আশঙ্কা
আন্তজাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ৫ মার্চ ২০২৬, ১৪:৪৭
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানের জেরে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্নের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। জ্বালানি অর্থনীতিবিদ এড হির্স সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
বুধবার আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হিউস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের এই লেকচারার বলেন, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করা তেলের সরবরাহের অর্ধেকও যদি বন্ধ হয়ে যায়, তবে বিশ্ব অর্থনীতি এক নজিরবিহীন সংকটে পড়বে। বিশেষ করে এই পথে চলাচলকারী তেলবাহী জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মার্কিন নৌবাহিনীর সীমাবদ্ধতা ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলছে।
বিশ্ববাজারে তেলের দাম ইতিমধ্যে বাড়তে শুরু করেছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে মার্চের শুরু পর্যন্ত ব্যারেলপ্রতি ১১ ডলারের বেশি বেড়েছে। আগে যেখানে দাম ছিল প্রায় ৭২ ডলার, বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮৩ দশমিক ৫১ ডলারে।
জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের বাজারেও। অভিযানের প্রথম দিনেই এলএনজির দাম ৪০ শতাংশের বেশি বেড়ে যায়। পরবর্তী দুই দিনে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ডিজেলের দামও দ্রুত বাড়ছে। এ অবস্থায় গ্যাসনির্ভর অনেক দেশ বিকল্প হিসেবে পেট্রোলিয়াম মজুত করতে শুরু করেছে। এতে ভবিষ্যৎ জ্বালানি সরবরাহ পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি অঙ্গরাজ্যও চাপে পড়তে পারে।
সংকটের প্রভাব পড়েছে ইরাকের বসরায় অবস্থিত রুয়াইলা তেলক্ষেত্রেও। হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থার কারণে তেল রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হওয়ায় দেশটি দৈনিক তেল উৎপাদন প্রায় ১৫ লাখ ব্যারেল কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত গ্যাস ফ্লেয়ারের আগুনের শিখার ছবিগুলো মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর বর্তমান পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, সরবরাহ ঘাটতি দীর্ঘস্থায়ী হলে এশিয়া ও ইউরোপের শিল্পোন্নত দেশগুলোর উৎপাদন ব্যবস্থাও বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে।
এই জ্বালানি সংকট যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। উচ্চ জ্বালানি মূল্য বিশেষ করে নিউ ইংল্যান্ড অঞ্চলের অঙ্গরাজ্যগুলোতে জনজীবনে চাপ বাড়াবে, যা আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা দ্রুত কাটানো না গেলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।