আজও অমলিন কিংবদন্তি শিল্পী মান্না দে
বিনোদন ডেস্ক | প্রকাশিত: ২ মে ২০২৬, ১১:৪৬
বাংলা ও উপমহাদেশের সংগীতজগতের কিংবদন্তি শিল্পী মান্না দে-এর ১০৭তম জন্মবার্ষিকী ছিলো ১মে। ১৯১৯ সালের ১ মে জন্ম নেওয়া এই মহান শিল্পীর সুর ও কণ্ঠ আজও কোটি শ্রোতার হৃদয়ে অমলিন হয়ে আছে।
জন্মনাম প্রবোধচন্দ্র দে। সংগীতপ্রেমী পরিবারে বড় হওয়া মান্না দে ছোটবেলা থেকেই সংগীতের পরিবেশে বেড়ে ওঠেন। তার সংগীতজীবনের হাতেখড়ি হয় খ্যাতনামা কাকা কৃষ্ণচন্দ্র দে-এর কাছে। পরবর্তীতে শচীন দেব বর্মণ এবং পঙ্কজ কুমার মল্লিক-এর মতো গুণী শিল্পীদের সংস্পর্শে এসে তিনি সংগীতে গভীরভাবে যুক্ত হন।
কলেজ জীবনে স্কটিশ চার্চ কলেজ-এ পড়াশোনার সময় বিভিন্ন সংগীত প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে একাধিকবার সাফল্য অর্জন করেন, যা তার পেশাদার সংগীতজীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
১৯৪২ সালে তিনি মুম্বাইয়ে পাড়ি জমান এবং শচীন দেব বর্মণের সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করেন। পরের বছর ১৯৪৩ সালে ‘তামান্না’ চলচ্চিত্রে গান গেয়ে তিনি প্লেব্যাক জগতে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করেন।
দীর্ঘ কর্মজীবনে মান্না দে বাংলা, হিন্দিসহ প্রায় ২৪টি ভাষায় সাড়ে তিন হাজারের বেশি গান গেয়েছেন। ‘কফি হাউজের সেই আড্ডাটা’, ‘সবাই তো সুখী হতে চায়’, ‘এই কুলে আমি আর ওই কুলে তুমি’সহ অসংখ্য কালজয়ী গান তাকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেয়।
তার অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি পদ্মশ্রী, পদ্মভূষণ এবং দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারসহ বহু সম্মাননায় ভূষিত হন।
২০১৩ সালের ২৪ অক্টোবর তিনি মৃত্যুবরণ করেন, তবে তার সুর আজও বেঁচে আছে শ্রোতাদের মনে—প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে দিচ্ছে সংগীতের অমর সৌন্দর্য।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।