যুবলীগের সম্রাটের ২০ বছরের কারাদণ্ড
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:৫৯
ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬ অবৈধ সম্পদের মামলায় জাতীয় যুবলীগ নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটকে পৃথক দুই ধারায় ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিচারক মো. জাকারিয়া হোসেন রায় ঘোষণা করেন।
সংশ্লিষ্ট আদালতের উচ্চমান বেঞ্চ সহকারী ফকির জাহিদুল ইসলাম জানান, অবৈধ সম্পদ অর্জনের দায়ে সম্রাটকে ১০ বছরের কারাদণ্ডের সঙ্গে ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করতে হবে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ৬ মাসের অতিরিক্ত কারাদণ্ড হবে। মানিলন্ডারিং মামলায়ও একইভাবে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে, অর্থদণ্ড অনাদায়ে ৬ মাসের কারাদণ্ড হবে। বিচারক আদেশে উল্লেখ করেছেন, দুই ধারার সাজা ধারাবাহিকভাবে কার্যকর হবে, ফলে সম্রাটকে মোট ২০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
সম্রাট বর্তমানে পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের ১২ নভেম্বর দুদকের উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আলম মামলাটি দায়ের করেন, যেটির তদন্তও তিনি নিজে করেন। মামলায় সম্রাটের বিরুদ্ধে ২ কোটি ৯৪ লাখ ৮০ হাজার ৮৭ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ ছিল।
এর আগে, ২০১৯ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার মতিঝিলের ক্লাবপাড়ায় র্যাবের অভিযানে অবৈধ ক্যাসিনোর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সম্রাট আত্মগোপন করেন। ৭ অক্টোবর কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে তাকে ও সহযোগী এনামুল হক আরমানকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। পরবর্তীতে তার কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে গুলি, বিদেশি পিস্তল, ১১৬০টি ইয়াবা, ১৯ বোতল বিদেশি মদ, দুটি ক্যাঙ্গারুর চামড়া এবং বৈদ্যুতিক নির্যাতন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
ক্যাঙ্গারুর চামড়া পাওয়া কারণে সম্রাটকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। এরপর ঢাকার রমনা থানায় মাদক ও অস্ত্র আইনে দুটি মামলা দায়ের হয়। ২০২২ সালের এপ্রিলের মধ্যে চার মামলায় তিনি জামিন পান।
রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর, ২০২৫ সালের ১৭ জুলাই আদালত সম্রাটের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করে। ২ ফেব্রুয়ারি সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়, যেখানে অভিযোগপত্রভূক্ত ২১ জন সাক্ষীর মধ্যে ২১ জনেরই সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। মামলায় সম্রাট পলাতক থাকায় তিনি আত্মপক্ষ শুনানি বা যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করতে পারেননি।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।