পুলিশ সদস্যদের অভিযোগ: নতুন ইউনিফর্মে স্বাচ্ছন্দ্য নেই
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩:০৭
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পুলিশ সংস্কারের অংশ হিসেবে গত বছরের নভেম্বর মাসে বাহিনীর ইউনিফর্ম পরিবর্তন করলেও অনেক পুলিশ সদস্য নতুন পোশাকে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন না। তারা অভিযোগ করছেন, নতুন লৌহ রঙের ইউনিফর্ম অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ, দেশের আবহাওয়ার জন্য উপযোগী নয় এবং সদস্যদের মতামত ছাড়া এটি নির্ধারণ করা হয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পর পুলিশের সমালোচনার প্রেক্ষাপটে ইউনিফর্ম পরিবর্তন করা হয়। নতুন রঙের পোশাক চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয় এবং সরকারের অনুমোদনের পর ১৪ নভেম্বর থেকে নতুন ইউনিফর্ম কার্যকর হয়।
তবে নতুন সরকার গঠনের পর পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে অনীহার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। ক্যাডার কর্মকর্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন এবং নন-ক্যাডার সদস্যদের সংগঠন বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন পৃথকভাবে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে।
বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের মতে, ২০০৩-২০০৪ সালে দীর্ঘ যাচাই-বাছাই শেষে খাকি ইউনিফর্ম নির্ধারণ করা হয়েছিল। নতুন ইউনিফর্মের ক্ষেত্রে সদস্যদের মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে।
কুমিল্লা জেলার পুলিশ সুপার ও সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. আনিসুজ্জামান বলেন, নতুন পোশাক দেশের পরিবেশ ও পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং রাতের দায়িত্ব পালনের সময় দৃশ্যমানতা কমে যায়।
ঢাকার রমনা বিভাগের এক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, নতুন পোশাকে বেশিরভাগ সদস্য স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন না এবং দায়িত্ব পালনকালে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন।
ভাটারা থানার পরিদর্শক (অপারেশন্স) আব্দুল্লাহ আল মামুন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরোনো ইউনিফর্ম ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, নতুন ইউনিফর্মে সদস্যদের আত্মমর্যাদা ও ঐতিহ্যগত সংযোগে প্রভাব পড়েছে। সাধারণ সম্পাদক মনিরুল হক ডাবলু বলেন, ইউনিফর্ম শুধু আনুষ্ঠানিক পোশাক নয়; এটি রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব, জনআস্থা ও পেশাগত মর্যাদার প্রতীক।
সভাপতি কামরুল হাসান তালুকদার বলেছেন, পূর্বের অধিক গ্রহণযোগ্য, দৃশ্যমান ও স্বতন্ত্র ইউনিফর্ম পুনর্বহালের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।