তারেক রহমানের ভিভিআইপি ফ্লাইটের ব্যবহৃত বিমানে বড় ত্রুটি, তদন্তে মিলল ভয়াবহ তথ্য
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ৭ মার্চ ২০২৬, ১৩:২০
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বোয়িং ৭৮৭-৯ উড়োজাহাজে বারবার যান্ত্রিক ত্রুটি এবং রক্ষণাবেক্ষণে নানা অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে। বিমানের প্রকৌশল ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতির কারণে উড়োজাহাজটি বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ছিল বলে জানা গেছে।
একই উড়োজাহাজ ব্যবহার করে ভিভিআইপি ফ্লাইট হিসেবে তৎকালীন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে আনা হয়েছিল।
গুরুত্বপূর্ণ এ বিষয়টি তদন্তে সম্প্রতি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিমান কর্তৃপক্ষ। কমিটির জমা দেওয়া প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
কমিটির প্রধান ছিলেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উপপ্রধান প্রকৌশলী মো. মনসুরুল আলম। সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ব্যবস্থাপক (অর্থ) আবদুল্লাহ আল মামুন। এছাড়া সদস্য হিসেবে ছিলেন উপমহাব্যবস্থাপক (প্রশিক্ষণ) মো. জুবিয়ারুল ইসলাম।
প্রতিবেদনটি ইতোমধ্যে বিমানের প্রকৌশল ও উপকরণ ব্যবস্থাপনা বিভাগে জমা পড়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিমান কর্তৃপক্ষের কেউ প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
তদন্ত প্রতিবেদনে বিমানের দুই প্রকৌশলী হীরালাল এবং মো. সাইফুজ্জামান খানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৯ ও ১৭ ডিসেম্বর উড়োজাহাজটির রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমে একাধিক অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে। নথি অনুযায়ী, ১০ ডিসেম্বরের রক্ষণাবেক্ষণ কাজ মাত্র দুই থেকে আড়াই ঘণ্টার মধ্যে শেষ করা হয়। কিন্তু বোয়িং ৭৮৭-৯ উড়োজাহাজের জন্য নির্ধারিত সময়ের তুলনায় এটি অস্বাভাবিকভাবে কম বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রক্ষণাবেক্ষণে অনিয়ম, বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা
তদন্ত কমিটির মতে, উড়োজাহাজটির ত্রুটি নির্ণয় বা কার্যকারিতা পরীক্ষার বিস্তারিত নথি এবং সংশ্লিষ্ট জনবলের রেকর্ড উপস্থাপন করতে না পারা গুরুতর অনিয়ম।
এছাড়া সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের অভাব ছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ১৫ দিনের মধ্যে একই ত্রুটি তিনবার দেখা দিলেও সেটিকে পুনরাবৃত্তিমূলক ত্রুটি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি।
বিমানের তথ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থায় সাধারণত শেষ ২৭টি ফ্লাইটের তথ্য থাকে। কিন্তু তদন্ত শুরুর সময় পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া যায়নি। এতে গুরুত্বপূর্ণ যান্ত্রিক তথ্য সময়মতো সংগ্রহ বা সংরক্ষণ করা হয়নি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত ২১ ডিসেম্বর লন্ডন থেকে সিলেটগামী বিজি-২০২ ফ্লাইট আকাশে থাকার সময় আবারও ভিএফএসজি বিকল হয়ে যায়। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমন ত্রুটির কারণে অগ্নিকাণ্ড বা গিয়ারবক্সে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রকৌশল বিভাগের ভুল ত্রুটি নির্ণয়ের কারণে এমন একটি উড়োজাহাজ ভিভিআইপি ফ্লাইটে ব্যবহৃত হওয়ায় সর্বোচ্চ পর্যায়ের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল।
বারবার যন্ত্রাংশ প্রতিস্থাপন, অন্য উড়োজাহাজ থেকে যন্ত্রাংশ খুলে আনা, অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ এবং পরিবহন ব্যয়ের কারণে প্রায় ২৬ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির মতে, এটি শুধু একটি যন্ত্রাংশ প্রতিস্থাপনের ঘটনা নয়; বরং পুরো ব্যবস্থাপনার সমন্বিত ব্যর্থতার প্রতিফলন।
দুই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ
তদন্ত প্রতিবেদনে বিমানের দুই প্রকৌশলী হীরালাল ও মো. সাইফুজ্জামান খানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। কমিটির মতে, ত্রুটি সংশোধন ও উড়োজাহাজকে পুনরায় পরিষেবায় ফেরানোর ক্ষেত্রে তারা যথাযথ সতর্কতা ও যাচাই-বাছাই করেননি।
বিশেষ করে কম জ্বালানি চাপের সতর্কবার্তা পাওয়ার পরও উড়োজাহাজটিকে ফ্লাইটের জন্য ছাড়পত্র দেওয়াকে গুরুতর সিদ্ধান্তগত ত্রুটি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে তাদের বিরুদ্ধে দায় নির্ধারণ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়েছে।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।