সোমবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১৩ মাঘ ১৪৩২

নির্বাচন উপলক্ষে সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ ড. ইউনূসের

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১৭:৪৬

সংগৃহীত

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠাতব্য গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এই নির্বাচনে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশ নিশ্চিত করতে তিনি বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

সোমবার সেনাসদরে সশস্ত্র বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। তিনি বলেন যে জনগণের আস্থার প্রতীক হিসেবে সশস্ত্র বাহিনী অতীতের মতো এবারও তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সফলভাবে পালন করবে বলে সরকার আশাবাদী।

নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা ড. ইউনূস তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জাতি নিজের দেশের দায়িত্ব গ্রহণের যে আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছে, এই নির্বাচন হবে তার চূড়ান্ত প্রতিফলন। তার মতে, গণভোটের মাধ্যমে মানুষ যেমন ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা সম্পর্কে মতামত দেবেন, তেমনি সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে তারা সেই মতামত বাস্তবায়নের জন্য যোগ্য প্রতিনিধি বেছে নেবেন। বিশেষ করে এবার অনেক তরুণ প্রথমবারের মতো ভোট দেবেন, তাই তাদের জন্য একটি ভয়মুক্ত ও উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করা জরুরি।

মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনে সতর্কতা নির্বাচন আয়োজনে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করার জন্য সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি স্পষ্ট নির্দেশনা দেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি মাঠপর্যায়ের প্রতিটি সিদ্ধান্ত আইনসম্মত ও সংযত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বিশেষভাবে সতর্ক করে দেন যেন কোনো ধরনের বিচ্যুতি জনগণের আস্থাকে ক্ষুণ্ন না করে।

সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন ও উন্নয়ন বিগত ফ্যাসিস্ট শাসনকালে সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা উপেক্ষিত ছিল উল্লেখ করে ড. ইউনূস বলেন যে বর্তমান সরকার এই বাহিনীর আধুনিকায়নকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তিনি জানান, এরই মধ্যে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সামরিক সরঞ্জাম তৈরির কারখানা স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি নেদারল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং ইতালি, জাপান ও থাইল্যান্ডের মতো দেশগুলোর সঙ্গেও একই ধরনের চুক্তি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

অভ্যুত্থান ও শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা বক্তব্যের শুরুতে প্রধান উপদেষ্টা মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ফ্যাসিবাদ পরবর্তী সময়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সশস্ত্র বাহিনীর বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা স্মরণ করে তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

সভায় সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁনসহ সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

এনএফ৭১/ওতু



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top