সাংবাদিক ও ঢাবি শিক্ষার্থীর ওপর হামলা: ডাকসুর তীব্র নিন্দা
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:২৮
রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাদকবিরোধী অভিযানের সময় পুলিশের হাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থী ও দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পরিচালিত মাদকবিরোধী অভিযানের সময় এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অভিযানের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও বামপন্থী ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নাঈম উদ্দিন পুলিশের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুললে তাকে লাঠিপেটা করা হয়। এ সময় পুলিশ সদস্যরা তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
একই ঘটনায় দায়িত্ব পালনরত কয়েকজন সাংবাদিক আহত হন। তাদের মধ্যে বাংলানিউজ২৪-এর মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিক তোফায়েল আহমেদ গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানের নেতৃত্বে থাকা ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) একজন কর্মকর্তা ডিসি মাসুদের সামনেই এ ঘটনা ঘটে। তবে এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতারা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দায়ী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এ ঘটনায় সোমবার দিবাগত রাতে এক বিবৃতিতে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অভিযানের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আক্রমণে একজন সাংবাদিক মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন এবং একই সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীকে বিনা উসকানিতে লাঠিপেটা করা হয়েছে। ডাকসু এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অভিযান চলাকালে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে বা কারও কাছে বেআইনি কিছু পাওয়া গেলে তাকে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করাই বিধিসম্মত পন্থা। কিন্তু বিনা উসকানিতে বলপ্রয়োগ আইন ও মানবাধিকারের পরিপন্থী।
ডাকসু জানায়, একজন শিক্ষার্থী ও দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকের ওপর এ ধরনের হামলা স্বাধীন গণমাধ্যম ও নাগরিক অধিকারের পরিপন্থী এবং অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছ থেকে সংযম, পেশাদারিত্ব ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরণ প্রত্যাশিত।
বিবৃতিতে অবিলম্বে ঘটনার সঙ্গে জড়িত দায়ী পুলিশ সদস্যদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসহ যেসব এলাকায় নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়, সেখানে যেন কোনো নিরীহ শিক্ষার্থী, সাংবাদিক বা সাধারণ মানুষ হয়রানি ও হেনস্তার শিকার না হন—সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কঠোর নির্দেশনা ও নজরদারির আহ্বান জানানো হয়।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।