ঋণে ডুবে থাকার চেয়ে লোডশেডিংয়ের কষ্ট সহ্য করা ভালো: বিদ্যুৎমন্ত্রী
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:৫৮
ঋণের ভারে জর্জরিত থাকার চেয়ে সীমিত কষ্ট সহ্য করা উত্তম বলে মন্তব্য করেছেন ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি বলেন, “আমরা লোডশেডিং রেখে গিয়েছিলাম সত্য, কিন্তু জাতির কাঁধে বোঝা চাপিয়ে যাইনি। এখন আলো জ্বলছে ঠিকই, কিন্তু জাতির ওপর ঋণের চাপ অনেক। ঋণে ডুবে থাকার চেয়ে কষ্ট করে থাকা ভালো।”
বৃহস্পতিবার বিকেলে সচিবালয়ে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশ-এর নির্বাহী কমিটির দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে বিদ্যুৎ খাতের ৭৬ হাজার কোটি টাকার বকেয়া ও লোকসান নিয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর-এর সঙ্গে বৈঠক করেন মন্ত্রী। বৈঠকে জানানো হয়, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড-এর কাছে বিভিন্ন কোম্পানির পাওনা প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা এবং আরও ৩০ হাজার কোটি টাকা বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের পুঞ্জীভূত লোকসান। এ অর্থ পরিশোধ না হলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত উপস্থিত ছিলেন।
বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হলেও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়নি। উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কেন্দ্র বসিয়ে রেখে সক্ষমতা ভাতা দিতে হচ্ছে। তিনি জানান, তার দায়িত্বকালে বিদ্যুৎ খাতে সিস্টেম লস ছিল ৬ শতাংশ, যা এখন বেড়ে ১০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ১ শতাংশ সিস্টেম লস প্রায় ৫০ লাখ টাকার সমান উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি ধাপে ধাপে কমিয়ে প্রথমে ৫ শতাংশ এবং পরে ৩ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সঙ্গে সমঝোতার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে, যাতে উভয়পক্ষের স্বার্থ সংরক্ষিত হয়। অন্যথায় দায় বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থার চাপ বাড়তে পারে।
গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে অতীতে যথেষ্ট উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বিদেশের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে দেশীয় কূপ খনন জোরদার করা হবে। এ জন্য নতুন রিগ কেনা এবং দক্ষ জনবল গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।