শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩২

বাবাকে হত্যার পর লাশ টুকরো টুকরো করে যা বললেন ছেলে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২:১৩

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের লখনউয়ে চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ব্যবসায়ী বাবা মানবেন্দ্র সিং-কে গুলি করে হত্যার পর তার দেহ খণ্ড খণ্ড করার অভিযোগ উঠেছে ছেলে অক্ষত সিং-এর বিরুদ্ধে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ছেলে পড়াশোনা নিয়ে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটে। বাবা চাইতেন ছেলে ডাক্তার হোক, তবে সে এতে অনাগ্রহী ছিল। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক অশান্তি চলছিল।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০ ফেব্রুয়ারি বিরোধ চরমে পৌঁছালে অক্ষত তার বাবাকে গুলি করে হত্যা করে। পরে মরদেহ খণ্ডিত করে হাত-পা ও মাথা প্লাস্টিকে মুড়িয়ে পাশের গ্রামে ফেলে দেওয়া হয়। দেহের বাকি অংশ একটি ড্রামে ভরে ঘরে রাখা হয়।

কিন্তু তদন্তকারীদের একটি সূত্র বলছে, এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে পড়াশোনা অন্যতম কারণ হতে পারে ঠিকই, কিন্তু অক্ষতের মূল লক্ষ্য ছিল তার বাবার ব্যবসা। মানবেন্দ্রের বোন সরলা সিং-এর দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে পড়াশুনা আসল কারণ নয়। অক্ষতকে তার বাবা বলেছিলেন যে, যত টাকাই খরচ হোক না কেন, যত দামি কলেজ হোক না কেন, তাকে ভর্তি করাবেন। কিন্তু আঁচ করতে পারেননি যে, ছেলে ভেতরে এত ঘৃণা এবং বিদ্বেষ জন্ম নিয়েছে।

সরলা বলেন, ‘ভাইঝি আমাকে বলেছে যে, অক্ষতের হাতে বন্দুক দেখে ও ভয় পেয়ে গিয়েছিল। তখন বলেছিল, দাদা এটা কী করছিস? তখন অক্ষত বলেছিল, আমার মাথা গরম আছে। চুপ কর। তার পরই মানবেন্দ্রকে গুলি করে।’

সরলা জানান, ‘মানবেন্দ্র শুধু তার দাদা নয়, এক জন বাবার মতো আগলে রেখেছিলেন। তাকে বিয়ে দিয়েছেন।’

এর আগে, গত ২০ ফেব্রুয়ারি মানবেন্দ্রকে গুলি করে খুনের ঘটনা ঘটে। তার পর তার লাশ খণ্ড খণ্ড করে হাত, পা এবং মাথা প্লাস্টিকে মুড়ে ফেলে দিয়ে আসেন পাশের গ্রামে। বাকি অংশ একটি নীল ড্রামের মধ্যে ভরে ঘরের মধ্যে রেখে দেন।

এই ঘটনার পর ছেলে অক্ষতকে গ্রেপ্তারের পর যখন মেডিক্যাল পরীক্ষার জন্য তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, সেই সময় তিনি সংবাদমাধ্যমের কাছে দাবি করেন, ভুল করে হয়ে গিয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, এই ঘটনায় তার বোন কীর্তিও কি জড়িত? তখন তিনি মাথা নাড়িয়ে ‘না’ বলেন। তার পরই সাংবাদিকদের উদ্দেশে তার মন্তব্য, ‘এ কাজ করতে চাইনি। ভুল করে হয়ে গিয়েছে।’

এনএফ৭১/একে



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top