বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২

কারিগরি শিক্ষাকে দক্ষ মানবসম্পদ গঠনের মূল হাতিয়ার গড়ে তুলতে হবে:শিক্ষামন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ৪ মার্চ ২০২৬, ১৩:৫৭

সংগৃহীত

দেশের বিপুল জনসংখ্যাকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করার জন্য কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষাকে আধুনিক, যুগোপযোগী এবং বাজারের চাহিদাভিত্তিক করতে হবে। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ জোরদার করা, শিল্প খাত ও একাডেমিয়ার মধ্যে শক্তিশালী সংযোগ তৈরি করা এবং কারিকুলাম ও সিলেবাস আধুনিকায়ন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন।

বুধবার সকাল ১০টায় কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের সভাকক্ষে অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম।

মন্ত্রী বলেন, কারিগরি শিক্ষার বিভিন্ন সূচক ও কেপিআই প্রাথমিকভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে। তবে বিষয়গুলো আরও গভীরভাবে অধ্যয়ন করে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ, শিল্প খাত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় এবং বাজারমুখী কারিকুলাম প্রণয়নের ক্ষেত্রে কিছু দুর্বলতা রয়েছে, যা দ্রুত দূর করতে হবে।

তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, প্রত্যেকে নিজ নিজ বিভাগ, প্রকল্প ও প্রতিষ্ঠানে উন্নয়নমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করবেন এবং মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার অপেক্ষায় না থেকে সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী মনোভাবের মাধ্যমে কাজ করার আহ্বান জানান।

মন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়, কারণ এখান থেকেই দেশের মানবসম্পদ তৈরি হয়। বাংলাদেশের প্রায় ১৮ কোটি জনগণের জন্য দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা একটি বড় দায়িত্ব। তিনি আশ্বস্ত করেন, বিপুল জনশক্তিকে দক্ষতায় রূপান্তরিত করলে এটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠবে।

তিনি আরও বলেন, কারিগরি, ভোকেশনাল ও পলিটেকনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে তাত্ত্বিক শিক্ষার অতিরিক্ত মনোযোগের পরিবর্তে ব্যবহারিক ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। এ জন্য কারিকুলাম ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার যথাযথ পর্যালোচনা জরুরি।

মন্ত্রী জানান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর সুযোগ সম্প্রসারণ করা হবে।

ড. মিলন বলেন, “উন্নত বিশ্বের অনেক দেশে জনসংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে, অন্যদিকে বাংলাদেশ জনসংখ্যার দিক থেকে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। এই জনশক্তিকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করা গেলে বাংলাদেশ বিশ্বে শক্তিশালী মানবসম্পদসমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে।”

সভা শেষে মন্ত্রী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে বলেন, গতানুগতিকভাবে কাজ করলে চলবে না; নতুন উদ্যম, উদ্দীপনা এবং দ্রুতগতিতে কাজ করতে হবে। প্রত্যেকের নিজস্ব লক্ষ্য, কর্মপরিকল্পনা এবং দায়িত্ববোধ থাকতে হবে। পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য বাস্তবায়নে কারিগরি শিক্ষা খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, দেশের উন্নয়ন ও মানবসম্পদ গঠনে সকলে আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করবেন।

 

এনএফ৭১/ওতু



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top