মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম গত এক সপ্তাহে অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। এই সময়ের মধ্যে তেলের দাম প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম একদিনেই প্রায় ৮ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৩ মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যায়। যা গত দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
যুদ্ধের প্রভাব এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়ার কারণে জ্বালানি ও পরিবহন খাতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। এর ফলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ব্রেন্ট নর্থ সি ক্রুড তেলের দাম ৮ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯২ দশমিক ৬৯ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান তেল সূচক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম ১২ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলার ছাড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে এ পথে সামুদ্রিক যান চলাচল প্রায় পুরোপুরি বন্ধ থাকায় জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে দক্ষিণ ও উত্তর ইরাকের কয়েকটি তেলক্ষেত্রে হামলার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একটি মার্কিন-পরিচালিত তেলক্ষেত্রে উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়েছে। পাশাপাশি ধারণক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে কুয়েতও তেল উৎপাদন কমাতে শুরু করেছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, দীর্ঘ সময় ধরে জ্বালানির দাম বেশি থাকলে বিশ্বজুড়ে আবারও মুদ্রাস্ফীতি বাড়তে পারে। এতে বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদের হার কমানোর সক্ষমতাও সীমিত হয়ে পড়তে পারে।
পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।