শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬, ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২

খামেনি হত্যায় ব্যবহৃত ব্লু স্প্যারো মিসাইল নিয়ে যা জানা গেল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ৭ মার্চ ২০২৬, ১৪:৪৬

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে সম্প্রতি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে ইসরায়েলের তৈরি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘ব্লু স্প্যারো’। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ক্ষেপণাস্ত্রের বিশেষ কৌশল ও গতি একে বিশ্বের অন্যতম ভয়ংকর আঘাত হানতে সক্ষম অস্ত্রে পরিণত করেছে।

ব্লু স্প্যারো কী এবং কারা তৈরি করেছে

‘ব্লু স্প্যারো’ মূলত একটি আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। সাধারণত এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ভূমি থেকে ছোড়া হলেও এটি যুদ্ধবিমান থেকে নিক্ষেপ করা হয়। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সংস্থা রাফায়েল অ্যাডভান্সড ডিফেন্স সিস্টেমস এটি তৈরি করেছে।

প্রথমদিকে ইসরায়েলের নিজস্ব আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘অ্যারো’ পরীক্ষার উদ্দেশ্যে এটি তৈরি করা হয়েছিল। পরে উন্নত প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে এটিকে কার্যকর আক্রমণাত্মক অস্ত্রে রূপ দেওয়া হয়।

কেন এটিকে এত বিধ্বংসী বলা হয়

এই ক্ষেপণাস্ত্রের বিশেষ কয়েকটি বৈশিষ্ট্যের কারণে একে অত্যন্ত শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

মহাকাশের প্রান্তে গিয়ে আঘাত:
ক্ষেপণাস্ত্রটি নিক্ষেপের পর বায়ুমণ্ডলের একেবারে শেষ প্রান্তে উঠে যায়। এরপর এর সামনের অংশ আলাদা হয়ে প্রায় খাড়াভাবে মাটির দিকে নেমে আসে এবং লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।

অত্যন্ত উচ্চ গতি:
উপরে থেকে নিচে নামার সময় এটি শব্দের গতির কয়েক গুণ বেশি গতিতে ধেয়ে আসে, ফলে প্রতিরোধ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।

শনাক্ত করা কঠিন:
বেশিরভাগ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিগন্ত বরাবর এগিয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করতে পারে। কিন্তু এই ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আকাশের ওপর দিক থেকে নিচে নেমে আসে বলে অনেক ক্ষেত্রেই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য তা ধরতে সময় পাওয়া কঠিন হয়ে যায়।

নির্ভুল লক্ষ্যভেদ ক্ষমতা:
এতে উন্নত উপগ্রহভিত্তিক দিকনির্দেশনা ও অভ্যন্তরীণ ন্যাভিগেশন প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে। ফলে বহু দূর থেকে নিক্ষেপ করলেও লক্ষ্যবস্তুর খুব কাছাকাছি গিয়ে আঘাত হানতে সক্ষম হয় এটি।

ধ্বংসক্ষমতা ও পাল্লা

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রায় পাঁচ শত কেজি পর্যন্ত শক্তিশালী বিস্ফোরক বহন করতে পারে। ফলে এটি কেবল স্থাপনা ধ্বংসই নয়, বরং মাটির নিচে থাকা শক্ত বাঙ্কারও ক্ষতিগ্রস্ত করতে সক্ষম।

এর পাল্লা প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হয়।

মূল্য ও ব্যবহার

প্রতিরক্ষা গোপনীয়তার কারণে এর সুনির্দিষ্ট দাম প্রকাশ করা হয়নি। তবে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে ও পরিচালনায় কয়েক মিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ ব্যয় হয়।

বর্তমানে এই প্রযুক্তি মূলত ইসরায়েলের কাছেই রয়েছে। তবে একই ধরনের প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে তৈরি নতুন প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন শক্তিশালী দেশ আগ্রহ দেখাচ্ছে বলে সামরিক মহলে আলোচনা রয়েছে।

এনএফ৭১/একে



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top