শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬, ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২

ঈদের বাজার জমজমাট, সক্রিয় অসাধু সিন্ডিকেট

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ৭ মার্চ ২০২৬, ১৫:০৫

ছবি: সংগৃহীত

ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেট ও বাজারে কেনাকাটায় বেড়েছে ভিড়। নতুন নতুন পোশাক ও পণ্যে সাজানো হয়েছে দোকান। তবে বাড়তি চাহিদাকে কেন্দ্র করে বাজারে সক্রিয় হয়ে উঠেছে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়িয়ে ক্রেতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত মুনাফা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার ছুটির দিনে রাজধানীর নিউ সুপারমার্কেট, গাউছিয়া, চাঁদনীচক, চন্দ্রিমা, নূরজাহান সুপারমার্কেট ও প্রিয়াঙ্গন শপিং সেন্টারসহ বিভিন্ন বিপণিবিতানে উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। ঈদের কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এবার নারীদের পোশাকে এসেছে নানা বৈচিত্র্য। ফারসি ধাঁচের সালোয়ার-কামিজ, পাকিস্তানি ও ভারতীয় নকশার পোশাক, কুর্তি, সিঙ্গেল কামিজ, টু-পিস, সারারা ও ঘারারা ব্যাপকভাবে বিক্রি হচ্ছে।

তবে ঈদের দুই সপ্তাহ আগেই বেশ কিছু নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। পোলাও চাল কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। এক দিনের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়েছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা। পাশাপাশি গরুর মাংস কেজিপ্রতি ৫০ টাকা বেড়ে বর্তমানে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া দুধ, চিনি, সেমাই, কিসমিস ও মসলাজাতীয় পণ্যও বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে।

রাজধানীর জিনজিরা বাজার, নয়াবাজার ও রায়সাহেব বাজার ঘুরে জানা গেছে, পোলাও চাল মানভেদে কেজিপ্রতি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল প্রায় ১২০ টাকা। মুগ ডাল কেজিপ্রতি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা।

মাংসের বাজারেও বেড়েছে দাম। ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ২৩০ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা। কক মুরগি ৩৫০ টাকা, লেয়ার ৩৬০ টাকা এবং দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৭৩০ টাকায়। গরুর মাংস কেজিপ্রতি ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

নয়াবাজারে কেনাকাটা করতে আসা জাহিদুল ইসলাম বলেন, বাজারে কোনো স্বস্তি নেই। রোজা এলেই কিছু বিক্রেতা কৃত্রিমভাবে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন। ঈদের আগে আবার নতুন করে দাম বাড়ানো হয়। প্রতি বছরই একই পরিস্থিতি দেখা যায়।

ভোক্তা অধিকার কর্মীরা বলছেন, ধর্মীয় উৎসব ঘিরে কিছু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মুনাফার চেষ্টা করে থাকে। ভোক্তাদের স্বস্তি দিতে হলে বাজারে কঠোর তদারকি জোরদার করতে হবে।

ভোক্তা অধিকার সংগঠনের এক কর্মকর্তা বলেন, দেশে ভোক্তা সুরক্ষার জন্য আইন রয়েছে। সেই আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা হলে বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে।

এদিকে বাজারে গুঁড়া দুধের মধ্যে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের দামও বেড়েছে। প্রতি কেজি ডানো ৮৬০ টাকা, ডিপ্লোমা ৯২০ টাকা, ফ্রেশ ৮৯০ টাকা ও মার্কস ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ২০০ গ্রামের লাচ্চা সেমাই ৫০ টাকা এবং চিকন সেমাই ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি চিনি ১০৫ টাকা, দেশি পেঁয়াজ ৬০ টাকা, রসুন ২৪০ টাকা, হলুদ ৪০০ টাকা এবং আদা ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খোলা সয়াবিন তেল লিটারপ্রতি ১৮৫ টাকা এবং বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, রোজা ও ঈদ উপলক্ষে বাজারে নিয়মিত তদারকি চালানো হচ্ছে। রাজধানীতে একাধিক টিম বাজার পরিদর্শন করছে এবং অনিয়ম পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top