বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে সাংস্কৃতিক সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড় বলে মন্তব্য করেছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি বলেন, দুই দেশের শিল্পকলা, ঐতিহ্য ও সাহিত্যের আদান-প্রদান জনগণের মধ্যে দৃঢ় সেতুবন্ধ তৈরি করেছে।
রোববার সচিবালয়ে মন্ত্রীর দপ্তরে বাংলাদেশে নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘ্যানশ্যাম ভান্ডারির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে নেপালের উপ-মিশন প্রধান ললিতা সিলওয়াল উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক, সভ্যতাগত ও ধর্মীয় সম্পর্কের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক সাংস্কৃতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
বর্তমানে চলমান ‘সংস্কৃতি বিনিময় কর্মসূচি (CEP) ২০২২-২৫’-এর মেয়াদ শেষ হতে চলায় এটি নবায়ন ও পরিধি সম্প্রসারণে উভয় পক্ষ গুরুত্বারোপ করে। এ সময় মন্ত্রী ডিজিটাল সংস্কৃতি, সৃজনশীল শিল্প ও বিমূর্ত ঐতিহ্য অন্তর্ভুক্ত করে একটি আধুনিক ও সময়োপযোগী নতুন কর্মসূচি প্রণয়নের ওপর জোর দেন।
তিনি বাংলা একাডেমি ও নেপাল একাডেমির মধ্যে সাহিত্যিক সহযোগিতা পুনরুজ্জীবিত করা এবং দুই দেশের সাহিত্যকর্ম অনুবাদের উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করেন।
এদিকে, আগামী ১৫ মে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত ‘নেপাল উৎসব’-এ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য মন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানান রাষ্ট্রদূত।
রাষ্ট্রদূত ঘ্যানশ্যাম ভান্ডারি বাংলাদেশের আতিথেয়তার প্রশংসা করে বলেন, নেপাল সবসময়ই বাংলাদেশের সঙ্গে সাংস্কৃতিক ও কৌশলগত অংশীদারিত্বকে গুরুত্ব দেয়। তিনি ঢাকার এশীয় চারুকলা প্রদর্শনীতে নেপালের নিয়মিত অংশগ্রহণ অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং সাংস্কৃতিক পর্যটন বিকাশে যৌথ উদ্যোগের প্রস্তাব দেন।
বৈঠকে দুই দেশের শিল্পী, গবেষক ও সাংস্কৃতিক প্রতিনিধিদের নিয়মিত সফর বিনিময় এবং যৌথ প্রদর্শনী আয়োজনের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়।
সাক্ষাৎকালে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও নেপাল দূতাবাসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।