জামায়াত প্রগতিশীল ও মধ্যপন্থি রাজনৈতিক দল: ডা. শফিকুর রহমান
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:৫৮
বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ভারতীয় সাপ্তাহিক ইংরেজি ম্যাগাজিন ‘দ্য উইক’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, জামায়াত একটি প্রগতিশীল ও মধ্যপন্থি ইসলামী রাজনৈতিক দল, যা সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে মিল রেখে নীতি ও কর্মসূচি পরিমার্জন করছে। তিনি বলেন, দল সবসময় গণতান্ত্রিক ও জনমুখী রাজনীতির প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ।
ডা. শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, আনুষ্ঠানিকভাবে ২০১৩ সাল থেকে কার্যত নিষিদ্ধ থাকলেও জামায়াত জনগণের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়নি। তিনি উল্লেখ করেছেন, “২০১৪ সালের উপজেলা নির্বাচনে আমাদের ফলাফল প্রমাণ করেছে, সংগঠন হিসেবে আমরা দৃঢ় এবং জনগণের সমর্থন আমাদের সঙ্গে রয়েছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে আমরা জাতীয় নির্বাচনের জন্য সক্রিয়ভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
তিনি বলেন, জামায়াত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া থেকে সরে যায়নি। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে অংশ নেওয়া অভিজ্ঞতা দলকে আরও শক্তিশালী করেছে। দলের সাংগঠনিক কাঠামো ও অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা জোরদার হয়েছে এবং সমসাময়িক সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে রাজনৈতিক কৌশল পুনর্মূল্যায়ন করা হয়েছে।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, “জামায়াত নিঃসন্দেহে ক্যাডারভিত্তিক মতাদর্শিক দল। তবে আমাদের আদর্শের মূল হলো শৃঙ্খলা, জবাবদিহি, স্বচ্ছতা এবং জনসেবা। বর্তমানে ভোটাররা কথার ফুলঝুরি নয়, নীতির রাজনীতি চান; সুযোগ সন্ধান নয়, বিশ্বাসযোগ্যতা চান। সেই কারণে আমাদের আদর্শিক অবস্থান কোনো দুর্বলতা নয়, বরং শক্তি।”
তিনি বলেন, তরুণ ও প্রথমবার ভোটারদের সঙ্গে সংযোগের ক্ষেত্রে জামায়াত মূলত কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং উদ্যোক্তা তৈরির ওপর জোর দিচ্ছে, যাতে দেশেই মর্যাদাপূর্ণ কর্মজীবন গড়ে তোলা সম্ভব হয়।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ আমাদের ইতিহাস জানেন এবং একাধিকবার ব্যালটের মাধ্যমে আস্থা প্রকাশ করেছেন। তবে আমরা নৈতিক দায়বদ্ধতা ও সমঝোতায় বিশ্বাস করি। ১৯৪৭ সালের পর যদি কোনো জামায়াত সদস্যের কর্মকাণ্ডে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকেন, আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।”
নারী ও সংখ্যালঘুদের অংশগ্রহণ সম্পর্কে তিনি জানিয়েছেন, জামায়াত গণতন্ত্র, বহুত্ববাদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনের প্রতি দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ। সম্প্রদায়ের বাস্তব প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে দল হিন্দু সম্প্রদায়ের একজন প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে। নারী প্রার্থী না থাকার কারণ হলো জোটভিত্তিক আসন বণ্টন; তবে অন্যান্য জোটসঙ্গী দলগুলোর নারী প্রার্থীকে পূর্ণ সমর্থন দেওয়া হচ্ছে।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।