‘মা আমাকে বাসের জানালা দিয়ে বের দিছে, উপরে উঠে মাকে খুঁজে পাচ্ছি না’
সারাদেশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৬ মার্চ ২০২৬, ১৩:৫০
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে যাত্রীবাহী বাস ডুবির মর্মান্তিক ঘটনায় একটি হৃদয়বিদারক কাহিনি উঠে এসেছে। আট বছর বয়সী আলিফের মা তাকে নিজের হাতেই জানালা দিয়ে বের করে দেন, ফলে শিশুটি প্রাণে বেঁচে গেলেও মা এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
বুধবার (২৫ মার্চ) বিকাল সোয়া পাঁচটার দিকে ‘সৌহার্দ্য’ পরিবহনের একটি বাস ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার সময় আলিফ তার মায়ের কোলে বসেছিল।
আলিফ কাঁদতে কাঁদতে জানায়, “বাস হঠাৎ উল্টে নদীতে পড়ে গেলে মা আমাকে জানালা দিয়ে বাইরে ঠেলে দিলেন। আমি সাঁতার কেটে উপরে উঠতে পারি, কিন্তু আমার মাকে আর খুঁজে পাইনি।”
ঈদের ছুটি শেষে মায়ের সঙ্গে ঢাকায় ফিরছিল আলিফ। তার সঙ্গে ছিলেন নানি সাহেদা বেগম। তিনি জানান, আলিফের মা জ্যোৎস্না বেগম ঢাকার বাইপাইল এলাকায় একটি তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন এবং তাদের বাড়ি রাজবাড়ী সদর উপজেলার মাছোঘাটা এলাকায়।
সাহেদা বেগম বলেন, “বাসে ওঠার পর মেয়ের সঙ্গে তার ফোনে কথা হচ্ছিল। একপর্যায়ে জ্যোৎস্না আতঙ্কিত কণ্ঠে বললেন, ‘আম্মা, বাস পদ্মায় পড়ে যাচ্ছে’। এরপর আর কোনো যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।”
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দুর্ঘটনার পর অন্তত ১১ জন যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন। সর্বশেষ তথ্যে ২৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে বাসে মোট কতজন যাত্রী ছিলেন, তা এখনও নিশ্চিত হয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ফেরিতে ওঠার সময় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। নিখোঁজদের উদ্ধারে তৎপরতা এখনো অব্যাহত রয়েছে, আর স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকা ভারাক্রান্ত হয়ে উঠেছে।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।