বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬, ১১ চৈত্র ১৪৩২

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে তুলে নিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি | প্রকাশিত: ২৫ মার্চ ২০২৬, ১৫:৫৮

ছবি: সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় দ্বীন ইসলাম (৩০) নামে এক কনটেন্ট নির্মাতাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে উপজেলার মেহারী ইউনিয়নের শিমরাইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত দ্বীন ইসলাম ওই গ্রামের সফিকুল ইসলামের ছেলে।

জানা গেছে, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘তালাশ ক্রাইম দৃষ্টি’ নামে একটি পেইজ পরিচালনা করতেন। সেখানে মাদকসেবন, মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে নিয়মিত প্রতিবেদন প্রকাশ করতেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে ২০ থেকে ৩০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল দ্বীন ইসলামকে তার নিজ বাড়ি থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে বুড়ি নদী পার করে কুমিল্লার বাঙ্গরা থানার গাঙ্গেরকুট এলাকায় ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা।

খবর পেয়ে কসবা থানা পুলিশ কুমিল্লার বাঙ্গরা থানার সিদ্ধিরগঞ্জ ফাঁড়ির পুলিশের সহায়তায় বিকেলে তাকে উদ্ধার করে। পরে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নিয়মিত ভিডিও প্রকাশ করায় ক্ষুব্ধ হয়ে একটি প্রভাবশালী চক্র পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মো. আবদুল আওয়াল ও তার সহযোগীদের জড়িত থাকার অভিযোগ তোলা হয়েছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মো. আবদুল আওয়াল বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে তিনি জড়িত নন। একটি মহল ষড়যন্ত্র করে তাকে জড়িয়ে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে।

কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজনীন সুলতানা বলেন, গ্রাম্য বিরোধকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটতে পারে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তিনি আরও জানান, নিহত দ্বীন ইসলামের বিরুদ্ধে কসবা থানাসহ বিভিন্ন থানায় মাদক, চুরি ও ডাকাতিসহ প্রায় ১০টি মামলা রয়েছে। হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

এনএফ৭১/একে



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top