বিএসএফের গুলিতে সীমান্তে বাংলাদেশি নিহত, ৪ দিন পর নদী থেকে লাশ উদ্ধার
সারাদেশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:৫৪
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার পলিয়ানপুর সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত এক বাংলাদেশি নাগরিকের মরদেহ চার দিন পর ইছামতি নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহত ব্যক্তির নাম রতি জয়ধর। তিনি গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার দেবেন্দ্রনাথ জয়ধরের ছেলে। জানা গেছে, প্রায় তিন মাস আগে তার পরিবারের সদস্যরা ভারতে চলে গেলেও তিনি তখন তাদের সঙ্গে যেতে পারেননি।
মহেশপুর-৫৮ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রফিকুল আলম জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় স্থানীয়রা ইছামতি নদীর পাড়ে দুর্গন্ধ পেয়ে কচুরিপানার নিচে একটি মরদেহ দেখতে পান। পরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের সদস্যরা গিয়ে নিশ্চিত হন মরদেহটি নদীর বাংলাদেশের অংশে প্রায় দশ গজ ভেতরে ভেসে ছিল। এরপর মহেশপুর থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেহেদী হাসান জানান, মরদেহটি আনুমানিক তিন থেকে চার দিন আগের বলে ধারণা করা হচ্ছে। পানিতে থাকার কারণে মরদেহটি ফুলে বিকৃত হয়ে গিয়েছিল এবং উপুড় অবস্থায় ভেসে ছিল। পরে মরদেহের সঙ্গে থাকা কাগজপত্রের মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।
তিনি আরও জানান, নিহতের ভাই রনজিত জয়ধর সকালে এসে মরদেহ শনাক্ত করেন। এরপর সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে।
সুরতহাল প্রতিবেদনে নিহতের ঘাড়ের দুই পাশ, পাঁজরের নিচে এবং পিঠে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে এগুলো গুলির আঘাত। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
নিহতের ভাই জানান, রতির স্ত্রী ও সন্তানরা অনেক আগেই ভারতে অবস্থান করছেন। সম্প্রতি তিনি জমি ও বাড়ি বিক্রি করে স্থায়ীভাবে ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। কিন্তু সেই যাত্রাই শেষ পর্যন্ত তার জীবনের শেষ যাত্রা হয়ে যায়।
এ ঘটনায় নিহতের গ্রামের বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।