নাটোরে ইউএনও কোয়ার্টারে কর্মকর্তাকে বেঁধে টাকা-স্বর্ণালঙ্কার লুট
সারাদেশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২ মে ২০২৬, ১৮:৫৯
নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলায় নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের উপপ্রশাসনিক কর্মকর্তার সরকারি বাসভবনে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১ মে) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় উপপ্রশাসনিক কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলামকে হাত-পা বেঁধে এবং তার স্ত্রীর গলায় অস্ত্র ঠেকিয়ে স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা লুট করে নেয় ডাকাত দল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ দিনের মধ্যে গুরুদাসপুর পৌর এলাকায় একই ধরনের কৌশলে অন্তত চারটি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে তিনটি থানা কমপ্লেক্সের কাছাকাছি এলাকায় সংঘটিত হয়। তবে এখন পর্যন্ত এসব ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। লুট হওয়া মালামালও উদ্ধার হয়নি। এতে স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
ভুক্তভোগী সিরাজুল ইসলাম জানান, তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনের পাশের একটি ভবনের নিচতলায় পরিবার নিয়ে বসবাস করেন। ঘটনার রাতে জানালার গ্রিল ভেঙে অন্তত তিনজন ডাকাত ঘরে প্রবেশ করে। তারা মুখ কালো কাপড়ে ঢাকা ছিল। ঘরে ঢুকেই তারা হত্যার হুমকি দেয় এবং তার স্ত্রীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হাত-পা ও মুখ বেঁধে ফেলে।
তার স্ত্রী জানান, ডাকাতরা তিনটি কক্ষ তছনছ করে স্বর্ণালঙ্কার, রূপার গহনা, মোবাইল ফোন এবং নগদ টাকা নিয়ে যায়। প্রাণের ভয়ে তারা কোনো চিৎকার করতে পারেননি। ডাকাত দল চলে যাওয়ার পর নৈশপ্রহরীর মাধ্যমে তারা উদ্ধার হন।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, এর আগেও গত ১৫ এপ্রিল একই কায়দায় থানার কাছের একটি বাড়িতে ডাকাতি হয়। ওই ঘটনায় স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থ লুট করা হয়। একই রাতে একটি গ্রাম থেকে গরুও চুরি হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কোয়ার্টারেও চুরির ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় একাধিক মামলা হলেও এখনো কোনো অগ্রগতি হয়নি।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ অভিযোগ করে বলেন, এলাকায় মাদকের বিস্তার বেড়ে যাওয়ায় চুরি-ডাকাতি বেড়েছে। থানা সংলগ্ন এলাকায় একের পর এক ঘটনা ঘটলেও অপরাধীদের ধরতে না পারায় আতঙ্ক আরও বাড়ছে। তারা নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
অন্যদিকে ভুক্তভোগীরা জানান, থানার কাছে থেকেও তারা নিরাপদ নন। অভিযোগ দেওয়ার পরও এখন পর্যন্ত কোনো গ্রেপ্তার হয়নি।
গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং আগের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের মতো নিরাপদ এলাকায় এমন ডাকাতি হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও শক্ত করার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।