যুদ্ধের প্রভাবে তেলের দামে আগুন, ব্যারেল ছাড়ালো ১২০ ডলার

বানিজ্য ডেস্ক | প্রকাশিত: ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১১:২৭

গ্রাফিক্স | নিউজফ্ল্যাশ সেভেন্টিওয়ান

ইরানকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি অবরোধের খবরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলার ছাড়িয়ে অল্প সময়ের জন্য ১২২ ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ। বৃহস্পতিবার সকালেও দাম ১২০ ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, চলমান সংঘাত এবং বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা বেড়েছে। বিশ্বের মোট তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে কোনো বিঘ্ন সরাসরি বিশ্ববাজারে বড় প্রভাব ফেলছে।

সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে জ্বালানি খাতের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৈঠকে দেশীয় জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানো, বিকল্প উৎস এবং বৈশ্বিক সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বৈঠক ইঙ্গিত দিচ্ছে যে হরমুজ প্রণালির সংকট দ্রুত কাটছে না।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে দেশটির বন্দরগুলোয় অবরোধ দীর্ঘায়িত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর জবাবে ইরানও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা অব্যাহত রাখার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

এদিকে সংঘাতের প্রভাব ইরানের অর্থনীতিতেও গভীর সংকট তৈরি করেছে। দেশটিতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৫৩ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছেছে, মুদ্রার মান রেকর্ড পরিমাণে কমেছে। পাশাপাশি যুদ্ধের কারণে প্রায় ২০ লাখ মানুষ চাকরি হারিয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার।

বিশ্বব্যাংক সতর্ক করে বলেছে, এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে ২০২৬ সালে জ্বালানির দাম আরও ২৪ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব ইতোমধ্যে বৈশ্বিক শেয়ারবাজারেও পড়তে শুরু করেছে। ইউরোপের প্রধান সূচকগুলোতে পতন দেখা গেলেও এশিয়ার বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা এবং সরবরাহ সংকট অব্যাহত থাকলে তেলের বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে, যার প্রভাব পড়বে বিশ্ব অর্থনীতির ওপরও।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top