বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩

অন্ধত্ব থামাতে পারেনি শরীফকে

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:০৫

সংগৃহীত

জন্ম থেকেই দুই চোখে আলো নেই শরীফ আলীর (১৯)। কিন্তু দৃষ্টিহীনতা তার স্বপ্নকে থামাতে পারেনি। অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও কঠোর পরিশ্রমকে পুঁজি করে তিনি এবার ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন, যা তার জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল ১০টায় শুরু হওয়া পরীক্ষার প্রথম দিনেই বাংলা প্রথমপত্রে অংশ নেন তিনি। ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এই পরীক্ষায় তিনি সরকারি নিয়ম অনুযায়ী একজন শ্রুতলেখকের সহায়তায় উত্তরপত্র সম্পন্ন করছেন।

ঠাকুরগাঁও শহরের গোবিন্দনগর মুন্সিরহাট এলাকার বাসিন্দা শরীফ পড়াশোনা করেছেন ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে। তার বাবা রমজান আলী একজন ইজিবাইক চালক। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও ছেলেকে শিক্ষিত করার দৃঢ় প্রত্যয় থেকেই পরিবারের সদস্যরা মুখে মুখে পড়া শুনিয়ে তাকে এগিয়ে নিয়েছেন।

প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে ২০২১ সালে মাধ্যমিকে ভর্তি হওয়ার পর থেকে শরীফ নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও তিনি কখনো পিছিয়ে পড়েননি।

তার শ্রুতলেখক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী শায়লা আক্তার (১৫)। শুরুতে শ্রুতলেখক না পাওয়ায় কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও, বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে শায়লা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসেন। পরবর্তীতে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদন নিয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

পরীক্ষার আগে শায়লা জানান, শরীফের ভালো ফলাফলে নিজের ভূমিকা রাখতে পারলে সেটিই হবে তার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

অন্যদিকে শরীফের স্বপ্ন—পড়াশোনা শেষ করে একটি ভালো চাকরি পাওয়া, যাতে তিনি তার পরিবারকে স্বচ্ছলভাবে রাখতে পারেন। তিনি বলেন, “আমার বাবা-মা আমার চোখের আলো ফেরাতে অনেক চেষ্টা করেছেন। এখন আমি তাদের জন্য কিছু করতে চাই।”

কেন্দ্র সচিব ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা শাহানুর বেগম চৌধুরী জানিয়েছেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত সময়সহ প্রয়োজনীয় সব সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রতি ঘণ্টায় ১৫ মিনিট অতিরিক্ত সময় দিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে।

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহীন আকতার জানান, এবছর জেলায় ৩৯টি কেন্দ্রে মোট ২৩ হাজার ২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে।

শরীফ আলীর এই গল্প কেবল ব্যক্তিগত সংগ্রামের নয়, এটি সমাজের জন্য এক অনুপ্রেরণা। প্রতিকূলতা যত বড়ই হোক, দৃঢ় মনোবল আর অধ্যবসায় থাকলে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব—শরীফ সেই উদাহরণই তুলে ধরেছেন।

 

এনএফ৭১/ওতু



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top