লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত
জাতীয় নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬:৫২
দেশে চরম নিরাপত্তাহীনতার প্রেক্ষাপটে এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান এ রিট আবেদন করেন।
রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং র্যাব মহাপরিচালককে বিবাদী করা হয়েছে।
রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্যমতে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় দেশের বিভিন্ন থানা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যালয় থেকে ৫ হাজার ৭৫০টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৬ লাখ ৫১ হাজার ৬০৯ রাউন্ড গোলাবারুদ লুট হয়ে যায়। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক হলেও সরকার পুরস্কার ঘোষণা করেও এসব অস্ত্রের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখনো উদ্ধার করতে পারেনি।
রিটে আরও বলা হয়, বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র সন্ত্রাসীদের হাতে থাকায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটার ও প্রার্থীদের জীবন মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। ইতোমধ্যে ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী শরীফ উসমান হাদী সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনা এই আশঙ্কাকে বাস্তবে প্রমাণ করেছে। এতে স্পষ্ট হয়, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার না হলে নির্বাচন রক্তক্ষয়ী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ ছাড়া নির্বাচন কমিশনার অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহও গণমাধ্যমে বলেছেন, নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা অত্যন্ত জরুরি।
আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান রিট আবেদনে উল্লেখ করেন, সরকার কিছু সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীর জন্য গানম্যানের ব্যবস্থা করলেও দেশের সাধারণ ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। এ অবস্থায় লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার না করেই নির্বাচন আয়োজন করা হলে তা সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ভোটার ও প্রার্থীদের মৌলিক অধিকার—‘জীবনের অধিকার’-এর চরম লঙ্ঘন হবে।
এ কারণে রিট আবেদনে লুট হওয়া সব আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার এবং নির্বাচনের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত রাখার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।